ফরিদপুর-২ আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সালথা উপজেলায় পৃথক তিনটি কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতা রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনটি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত। চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় শুরু থেকেই এখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গট্টি ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক কালাম মিয়া, রাবিউল মিয়া এবং আমজাদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা যথাক্রমে ইউসুফদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জয়ঝাপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা এবং স্লোগান প্রদানের মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগও ওঠে।
কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করলে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বন্ধ হয়নি এবং পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে থাকে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।”
ফরিদপুর-২ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে এবং অপরজন ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে। সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
ঘটনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংসদীয় আসন | ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) |
| আটক ব্যক্তির সংখ্যা | ৩ জন |
| আটক স্থান | ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপা কেন্দ্র |
| অভিযোগ | ভোটার প্রভাবিতকরণ ও হস্তক্ষেপ |
| মোতায়েন বাহিনী | সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ |
| আইনগত ব্যবস্থা | ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রক্রিয়া শুরু |
জেলা প্রশাসন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে এবং কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
