,

কেন্দ্র দখলের অভিযোগে উত্তাপ ঢাকা-৮

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনে ভোটের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং পরিকল্পিত কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, তার কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আরামবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি, মেস ও মাদরাসায় ২০০ থেকে ৩০০ জন ব্যক্তি অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এদের অনেকেই সশস্ত্র এবং ভোটের দিন সকালে তারা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করতে পারেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়সহ অন্তত সাতটি ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। বিএনপির কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে রমনা থানায় সোপর্দ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-৮ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তীব্র। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত রয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

নিম্নে অভিযোগে উল্লিখিত পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

বিষয়অভিযোগের বিবরণ
সংশ্লিষ্ট এলাকাআরামবাগ ও আশপাশের এলাকা
সম্ভাব্য অবস্থানবাসাবাড়ি, মেস ও মাদরাসা
অভিযোগিত ব্যক্তির সংখ্যাআনুমানিক ২০০–৩০০
অনুপ্রবেশের অভিযোগকৃত কেন্দ্রঅন্তত ৭টি
নির্দিষ্ট কেন্দ্রের নামসিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়সহ অন্যান্য

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেন্দ্র দখল বা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত করার যে কোনো প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবেন। তার মতে, জনগণের অংশগ্রহণই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান নিশ্চয়তা।

নির্বাচন সামনে রেখে এমন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন ভোটের পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকবে, সেটিই নির্ধারণ করবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।