ইইউ পর্যবেক্ষক দেখলেন নির্বাচন প্রস্তুতি

গতকাল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্‌প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সংসদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে প্রতিনিধিদলের কাছে বর্ণনা করে।

ইইউ প্রতিনিধি দল কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও সামগ্রিক প্রস্তুতির অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নাগরিকরা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে আমরা সমস্ত পর্যবেক্ষক ও সহায়তার জন্য প্রস্তুত।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পর্যাপ্ত সম্পদ, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বারা সজ্জিত। এ ছাড়াও ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

বৈঠকের পর ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সামগ্রিক পরিবেশের একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করেন। তারা কমিশনের বিস্তারিত প্রস্তুতি এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন, এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যবেক্ষণকালে পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতির স্তর দেখতে পান।

নিম্নে নির্বাচনের মূল প্রস্তুতিগুলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

প্রস্তুতির ক্ষেত্রবিবরণ
নির্বাচন তারিখ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পর্যবেক্ষকইউরোপীয় সংসদ প্রতিনিধি দল
কেন্দ্রীয় তদারকিনির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় কার্যালয়
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা পূর্ণ নিরাপত্তা
প্রযুক্তি ব্যবহৃতইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং কেন্দ্রীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
জনসচেতনতা অভিযানগণমাধ্যম প্রচারণা, সংবাদ সম্মেলন ও ভোটার শিক্ষণ কর্মসূচি

বৈঠকের পর ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান নির্বাচন প্রস্তুতির স্বচ্ছতা ও সংগঠনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সম্পন্ন হবে এবং একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনও পর্যবেক্ষক এবং অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রমাণ করছে যে, দেশ স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।