ঢাকা শহর ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংলগ্ন গণভোটের প্রস্তুতিতে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোটাভুটির নিশ্চয়তা দিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ভোটকেন্দ্র এবং আশেপাশের সড়কগুলোতে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা ও মোতায়েন দেখা যাচ্ছে।
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে মোট ২৬,৫১৫ পুলিশ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্রের আশেপাশেই সীমাবদ্ধ নয়। তালেবুর রহমান জানিয়ে বলেন, স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল ইউনিট, এবং রিজার্ভ কন্টিনজেন্টগুলো ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছে যাতে হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। এছাড়া বিশেষায়িত ইউনিট যেমন এসডব্লিউএটি (SWAT), কে-৯ দল, বোমা নিষ্কাশন ইউনিট, এবং ক্রাইম সিন ভ্যান জরুরি বা জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য শহরজুড়ে চেকপোস্ট ও পেট্রোল অপারেশন জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি বা নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। আশা করছি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটাভুটি হবে।”
নির্বাচনকারীদের আশ্বস্ত করতে তিনি বলেন, “নাগরিকরা ভয়ের কিছু ছাড়াই নিজের মৌলিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। পুলিশ আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে রয়েছে।”
নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, “বিশেষ কোনো হুমকির প্রত্যাশা নেই, তবে আমাদের প্রস্তুতি সর্বদা পূর্ণাঙ্গ এবং পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”
নিচের টেবিলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্বাচনী দায়িত্বের সারসংক্ষেপ দেখানো হলো:
| ইউনিট / ফোর্স | দায়িত্ব | কর্মী / সম্পদ |
|---|---|---|
| সাধারণ পেট্রোল ও চেকপোস্ট | সড়ক ও এলাকায় রুটিন নিরাপত্তা বজায় রাখা | সমস্ত পুলিশ স্টেশন ভিত্তিক পেট্রোল |
| স্ট্রাইকিং ফোর্স | জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত | ৫০০–৭০০ জন |
| মোবাইল দল | ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিরাপত্তা ও সহায়তা | ২০০–৩০০ জন |
| রিজার্ভ ফোর্স | প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা | ১,০০০ জন |
| SWAT ইউনিট | জটিল পরিস্থিতি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা | ২০০ জন |
| K-9 ইউনিট | বিস্ফোরক বা অবৈধ পদার্থ শনাক্তকরণ | ৫০ কুকুর ও হ্যান্ডলার |
| বোমা নিষ্কাশন ইউনিট | সন্দেহজনক বিস্ফোরক বা হুমকি নিরসন | ১০–১৫ জন বিশেষজ্ঞ |
| ক্রাইম সিন ভ্যান | অপরাধ বা অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিশ্লেষণ | ৫–১০ মোবাইল ভ্যান |
এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকা প্রশাসন নিশ্চিত করতে চায় যে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা উদ্বেগমুক্ত অবস্থায় অংশ নিতে পারবে, এবং পুলিশ সর্বদা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপস্থিত থাকবে।
