রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় একজন নারী ব্যাংকারের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চুরির এই দুঃসাহসিক ঘটনার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ভুক্তভোগীর আপন মামাতো ভাই। এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট ও চুরির বিবরণ
মামলার এজাহার এবং পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ব্যাংকার তাজরীন খান আদ্রিতার মানিকনগরের বাসায় গত ২০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, আদ্রিতার আপন মামাতো ভাই সাদমান সাকিব সৌমিক পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বাসায় যাতায়াত করতেন এবং কৌশলে আলমিরার ড্রয়ার থেকে প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলেন। এই চুরির ঘটনায় প্রথমে আদ্রিতা মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও রিমান্ড মঞ্জুর
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই কাইয়ুম বাহাদুর জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অপরাধে ‘মায়মুনা জুয়েলার্স’-এর মালিক সাদ্দাম হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে প্রত্যেকের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এক নজরে মামলার প্রধান তথ্যসমূহ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ভুক্তভোগী | তাজরীন খান আদ্রিতা (নারী ব্যাংকার) |
| প্রধান অভিযুক্ত | সাদমান সাকিব সৌমিক (মামাতো ভাই) |
| সহ-অভিযুক্ত | সাদ্দাম হোসেন (জুয়েলার্স মালিক) |
| চুরিকৃত স্বর্ণের পরিমাণ | প্রায় ১১ ভরি |
| আনুমানিক বাজারমূল্য | ২৭ লক্ষ টাকা |
| নগদ চুরিকৃত অর্থ | ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা |
| বর্তমান অবস্থা | আসামিরা এক দিনের পুলিশি রিমান্ডে |
পারিবারিক নিরাপত্তা ও নৈতিক অবক্ষয়
এই চুরির ঘটনাটি সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অতি আপনজনের মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গের এক চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌমিক আগে থেকেই বাসার চাবির অবস্থান এবং আলমিরার ভেতরের মূল্যবান জিনিসের কথা জানতেন। এছাড়া চোরাই স্বর্ণালংকার কোনো প্রকার বৈধ রসিদ ছাড়া কেনায় জুয়েলার্স মালিক সাদ্দাম হোসেনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই চুরির পেছনে অন্য কারো প্ররোচনা বা বড় কোনো ঋণের দায় থাকতে পারে। রিমান্ড চলাকালীন আসামিদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। রাজধানীতে দিন দিন অভ্যন্তরীণ চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের বাসা-বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মূল্যবান সম্পদ ব্যাংক লকারে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট গঠন করা হবে যাতে ভুক্তভোগী দ্রুত বিচার পান এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়।
