ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে চূড়ান্ত একাদশ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় আর মাত্র চার মাস বাকি। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে খ্যাত এই আসরের জন্য সব দেশই তাদের দলকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রেখেছে। লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী ও সফল দল ব্রাজিলও ষষ্ঠবারের বিশ্বকাপ জয় চূড়ান্ত করার স্বপ্ন দেখছে।

দক্ষ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলকে নতুনভাবে সাজানো শুরু করেছেন। আনচেলত্তির নির্দেশনায় ব্রাজিলিয়ান দল গত বছরের জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন ও প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে ফিটনেস ও কৌশলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই প্রক্রিয়ায় স্কোয়াডের বড় অংশ প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

গত সোমবার ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে কিছু পজিশনে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। তবে ইতিমধ্যেই আনচেলত্তি কিছু খেলোয়াড়কে নিশ্চিত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার সংকেত দিয়েছেন।

ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনের অনুযায়ী, আগামী মে মাসে চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তির স্কোয়াডে প্রায় নিশ্চিত ১১ জন খেলোয়াড় থাকবেন। এদের মধ্যে গোলকিপার, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড রয়েছেন।

প্রায় নিশ্চিত ১১ জন খেলোয়াড়ের তালিকা:

পজিশনখেলোয়াড়ের নাম
গোলকিপারঅ্যালিসন বেকার
ডিফেন্ডারমারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াঁইস
মিডফিল্ডারকাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস
ফরোয়ার্ডভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রদ্রিগো, ম্যাথেউস কুনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি

বাকি ১৫ জনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলমান। আনচেলত্তি স্কোয়াডে ৩ জন গোলকিপার, ৪ জন ফুলব্যাক, ৫ জন সেন্টারব্যাক, ৪–৫ জন মিডফিল্ডার এবং ৯–১০ জন ফরোয়ার্ড রাখার পরিকল্পনা করছেন। গোলকিপার পজিশনে অ্যালিসনের সহায়ক হিসেবে বেন্তো বা হুগো সুজারের নাম ভাবা হচ্ছে। ডিফেন্সে এদার মিলিতাও, অ্যালেক্স সান্দ্রো ও অ্যালেক্সসান্দ্রোর মতো খেলোয়াড়দের জায়গা প্রায় নিশ্চিত।

ফুলব্যাক পজিশনে প্রতিযোগিতা তীব্র, বিশেষ করে মিলিতাওয়ের ফিটনেসের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সেন্টারব্যাকে বাঁ-পায়ের ডিফেন্ডার হিসেবে ফ্লামেঙ্গোর লেও পেরেইরাকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন কোচ।

আক্রমণভাগে চমক থাকতে পারে। ৯ নম্বর পজিশনে ম্যাথেউস কুনিয়ার সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এন্দ্রিক, জোয়াও পেদ্রো ও লুইজ হেনরিকের লড়াই হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নেইমারের সঙ্গে সম্পর্কিত। চোটের পর পুনর্বাসনে থাকা ৩৪ বছর বয়সী তারকা শিগগিরই মাঠে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আনচেলত্তি বলেছেন, নেইমার শতভাগ ফিট থাকলে তাকে দলে নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেইমারের মাঠে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ব্রাজিলের ষষ্ঠবারের বিশ্বকাপ জয় সম্ভবত অনেক সহজ হয়ে যাবে।

এভাবে, আনচেলত্তির পরিকল্পনা ও দারুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ মিশনের চূড়ান্ত রূপ আগামী কয়েক মাসে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।