যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোক্তার আলীর বাসভবনে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর না মিললেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে কেশবপুর পৌরসভার সড়কে অবস্থিত পৌর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সাইদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণ নয়; বরং নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত প্রার্থী মোক্তার আলীর জনপ্রিয়তা ও প্রচারণা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের সন্ত্রাসী কৌশল নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি।
দাবিসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো:
| ক্রম | দাবি | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার | সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা |
| ২ | নিরপেক্ষ তদন্ত | স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নেপথ্য পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা |
| ৩ | নিরাপত্তা জোরদার | প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ব্যবস্থা |
| ৪ | ভয়ভীতি দমন | নির্বাচনী সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির সব অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ |
সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করা হচ্ছে না; তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ঘটনার পরদিন দুপুরে কেশবপুর শহরের বায়সা সড়কে অবস্থিত মোক্তার আলীর বাসার সামনে স্থানীয় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রার্থীর ছেলে মুরশিদুল মারুফ জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও কাউকে দেখতে পাননি। আতঙ্কের কারণে পরিবারের সদস্যরা কিছু সময় ঘরের বাইরে অবস্থান করেন।
মোক্তার আলী বলেন, বিস্ফোরণের পরপরই তিনি কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায়কে ফোনে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। তিনি বাড়ির সামনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
কেশবপুর থানার ওসি শুকদেব রায় জানান, ঘটনাস্থল থেকে জর্দার কৌটার ভাঙা অংশ ও স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে দেশীয় ককটেল বিস্ফোরণের আলামত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা কখনো কখনো সহিংসতার রূপ নেয়। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অক্ষুণ্ন রাখতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কেশবপুরের এই ঘটনাটি তাই শুধু একটি বিস্ফোরণ নয়; বরং নির্বাচনী নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
