বিশ্বকাপ শুরু হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসি যেন একটি অদৃশ্য চাপে বন্দি। একের পর এক বিতর্কে সংস্থার কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা পরীক্ষা হচ্ছে। এর সর্বশেষ প্রেক্ষাপট হলো ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য পাকিস্তানকে রাজি করানোর প্রচেষ্টা। গুঞ্জন অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
গতকাল দিনভর এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলেছে। আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন হঠাৎ লাহোর সফরে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার উদ্দেশ্যেই এই সফর। সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণে ভারত সফরে অনীহা প্রকাশ করা দেশগুলোর অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
আইসিসি বাংলাদেশকে পাশে চাইছে এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এতে বাংলাদেশও লাভবান হতে পারে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ফলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা যেমন—আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে প্রাপ্য অর্থ হারানো বা ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফরে জটিলতা—এসব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংক্ষেপে টেবিলে দেখানো হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| বৈঠকের উদ্দেশ্য | পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য রাজি করানো |
| বাংলাদেশির ভূমিকা | পারস্পরিক সমঝোতায় মধ্যস্থতা |
| সফরের তারিখ | মধ্যরাতে লাহোর যাত্রা, ভোরে পৌঁছান |
| পিসিবির স্বাগত | সালমান নাসিরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা |
| বৈঠকে অংশগ্রহণকারী | পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও অন্যান্য আইসিসি সদস্য দেশ |
| পাকিস্তানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত | ভারত ম্যাচ বয়কটের পরিকল্পনা |
| আইসিসির কূটনৈতিক উদ্যোগ | ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা নেতৃত্বে |
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পরশু রাতে হঠাৎ করে জরুরি বার্তা পান এবং মধ্যরাতে লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, ভোরে পৌঁছে তিনি পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পিসিবির ফেসবুক পেজে আমিনুলকে স্বাগত জানানোর ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে সালমান নাসিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।”
আইসিসির এই জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের পাশাপাশি অন্যান্য সদস্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বাংলাদেশের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সফরে অনীহার কারণে আলোচনা শুরু হয়েছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন এবং আইসিসির কূটনৈতিক উদ্যোগ মিলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসি পাকিস্তানকে পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রক্রিয়ায় ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের পর আইসিসি গতকাল জরুরি বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকের আগে আমিনুল বিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেন।
এই সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমঝোতা ও আইসিসির মধ্যস্থতা বিশ্ব ক্রিকেটের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
