অ্যানফিল্ডের চিরচেনা প্রতিকূল পরিবেশে লিভারপুলের বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় জয়ের পর ম্যানচেস্টার সিটি এখন প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। তবে দলের ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, শিরোপা জয়ের দৌড়ে আর্সেনালকে ছাড়িয়ে যেতে হলে বর্তমানের চেয়ে আরও অনেক বেশি উন্নতি করতে হবে তার দলকে।
Table of Contents
অ্যানফিল্ডের রুদ্ধশ্বাস জয় ও শিরোপার লড়াই
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক যখন লিভারপুলকে লিড এনে দেয়, তখন মনে হচ্ছিল সিটির শিরোপা স্বপ্ন বুঝি ফিকে হয়ে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে হারলে আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বার্নার্দো সিলভা এবং আর্লিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে সিটি ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডের ভরা গ্যালারির সামনে লিভারপুলকে হারানোর স্বাদ পেল সিটিজেনরা।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৬-এ। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকা বার্নার্দো সিলভা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন, “এই ম্যাচে হেরে গেলে শিরোপার লড়াই আমাদের জন্য কার্যত শেষ হয়ে যেত।” গার্দিওলা অবশ্য তার চেয়েও বেশি আশাবাদী। তিনি বলেন, “৯ পয়েন্টের ব্যবধান কমানো কঠিন ছিল, বিশেষ করে আর্সেনালের মতো ছন্দে থাকা দলের বিপক্ষে। তবে ১৩টি ম্যাচ বাকি থাকা মানে অনেক পথ চলা।”
পরিসংখ্যান ও পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র
| দলের নাম | পয়েন্ট ব্যবধান (সিটির সাপেক্ষে) | লিগের বাকি ম্যাচ | পরবর্তী লক্ষ্য |
| আর্সেনাল | +৬ (শীর্ষস্থান) | ১৩ | শীর্ষস্থান ধরে রাখা |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ০ | ১৩ | আর্সেনালকে টপকে যাওয়া |
| লিভারপুল | পিছিয়ে পড়া | ১৩ | শীর্ষ চারে থাকা |
গার্দিওলার কৌশল ও সতর্কতা
পেপ গার্দিওলা মনে করেন, আর্সেনাল আগামী ১৩ ম্যাচে তিনটির বেশি ম্যাচ হারবে না। তাই সিটিকে শুধু নিজেদের জয় পেলেই চলবে না, বরং নিজেদের খেলার মানও আরও বাড়াতে হবে। তার ভাষায়, “শুধুমাত্র একটু উন্নতি করলেই আর্সেনালের মতো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের হাতে এখনো সময় ও সুযোগ আছে। আমাদের ঘরের মাঠে আর্সেনালের সাথে খেলতে হবে এবং অবশ্যই তাদের হারাতে হবে।”
গার্দিওলা আরও মনে করিয়ে দেন যে, লিগের শেষ দিকে রেলিগেশন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একদিকে এফএ কাপ, কারাবাও কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যস্ত সূচি, অন্যদিকে ছোট দলগুলোর টিকে থাকার লড়াই—সব মিলিয়ে শিরোপার লড়াই তীব্র রূপ নেয়। তিনি চান তার দল সবসময় আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাখুক, যাতে আর্সেনাল কোনো ভুল করলেই সিটি সেটার সুযোগ নিতে পারে।
বিতর্ক ও রেফারির সিদ্ধান্ত
ম্যাচে ১০০তম মিনিটে রায়ান চেরকির মাঝমাঠ থেকে করা এক গোল বাতিল এবং সোবোসলাইয়ের লাল কার্ড পাওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সিটির গোলটি বাতিল হয় কারণ সোবোসলাই ও হালান্ড একে অপরের জার্সি টেনে ধরছিলেন। গার্দিওলা রসিকতা করে বলেন যে, ম্যাচ যেহেতু সিটি জিতেই গেছে, গোলটি দিয়ে দিলে সোবোসলাইকে হয়তো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হতো না।
অন্যদিকে, লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্ক গুয়েনির একটি হলুদ কার্ড নিয়ে। তার মতে, গোলশূন্য থাকাকালীন মোহামেদ সালাহকে যখন গুয়েনি টেনে ধরেন, তখন তা সরাসরি লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। স্লটের দাবি, সালাহ গোলরক্ষকের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থানে ছিলেন এবং রেফারি সেখানে সঠিক নিয়ম প্রয়োগ করেননি।
সব মিলিয়ে অ্যানফিল্ডের এই জয় সিটির পালে নতুন হাওয়া দিলেও, আর্সেনালকে হটিয়ে পুনরায় সিংহাসনে বসা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন গার্দিওলা।
