মুম্বাইয়ে নেপালের হৃদয়ভঙ্গ: স্যাম কারেনের অভিজ্ঞতায় জয়ী ইংল্যান্ড

মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম আজ রূপ নিয়েছিল এক টুকরো কাঠমান্ডুতে। গ্যালারি ভরা নেপালি সমর্থকদের উন্মাদনা আর লাল-নীল পতাকার ঢেউ দেখে মনে হচ্ছিল, হিমালয়ের পাদদেশের কোনো মাঠে খেলা চলছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে প্রায় স্তব্ধ করে দিয়েছিল নেপাল। তবে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপ আর স্যাম কারেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কাছে ৪ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো সহযোগী দেশটিকে।

ম্যাচের গতিপথ: জ্যাকস ও ব্রুকের ব্যাটিং তাণ্ডব

টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিল সল্টকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে তরুণ জ্যাকব বেথেলের ২৮ বলে ৫৫ এবং হ্যারি ব্রুকের ৩১ বলে ৫৩ রানের দুটি লড়াকু ইনিংস ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। এক পর্যায়ে নেপালি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত স্পিনে ইংল্যান্ড চাপে পড়লেও শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ১৮ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান তোলে ইংলিশরা। বিশেষ করে শেষ ওভারে করণ কেসির বলে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস।

নেপালের অকুতোভয় লড়াই

১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে। কুশল ভুরতেলের ২৯ রানের পর ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক রোহিত পৌডেল এবং অভিজ্ঞ দীপেন্দ্র সিং ঐরী। এই জুটি মাত্র ৫৪ বলে ৮৪ রান যোগ করে অঘটনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির মালিক ঐরী ২৬ বলে ৪৪ রান করে যখন স্যাম কারেনের শিকার হলেন, তখন নেপাল শিবিরে কিছুটা স্তব্ধতা নেমে আসে।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও ফলাফল:

বিষয়ইংল্যান্ডনেপাল
মোট রান১৮৪/৭ (২০ ওভার)১৮০/৬ (২০ ওভার)
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকজ্যাকব বেথেল (৫৫)দীপেন্দ্র সিং ঐরী (৪৪)
সেরা বোলারলিয়াম ডসন (২/২১)দীপেন্দ্র সিং ঐরী (২/২৩)
ম্যাচের মোড় পরিবর্তনকারীউইল জ্যাকস (৩৯*)লোকেশ বাম (৩৯*)
ফলাফলইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী

লোকেশ বামের বীরত্ব ও শেষ ওভারের নাটকীয়তা

শেষ ৪ ওভারে নেপালের প্রয়োজন ছিল ৬২ রান। কাজটা প্রায় অসম্ভব মনে হলেও লোকেশ বামের দানবীয় ব্যাটিং ওয়াংখেড়েকে প্রকম্পিত করে তোলে। জফরা আর্চার এবং লুক উডের ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শেষ ৬ বলে জয়ের সমীকরণ ১০ রানে নামিয়ে আনেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বল তুলে দেন অভিজ্ঞ স্যাম কারেনের হাতে। কারেন তার অভিজ্ঞতার ঝুলিকে কাজে লাগিয়ে ইয়র্কার এবং স্লোয়ারের সংমিশ্রণে নেপালি ব্যাটারদের হাত খোলার সুযোগ দেননি। শেষ ওভারে লোকেশ বাম মাত্র ৫ রান নিতে সক্ষম হন। ফলে ১৮০ রানে থামে নেপালের ইনিংস। ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকলেও মাঠ ছাড়তে হয় পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে।

এই পরাজয় সত্ত্বেও নেপাল ক্রিকেট বিশ্বকে জানান দিল, তারা এখন আর কেবল অংশগ্রহণকারী দল নয়, বরং যেকোনো পরাশক্তিকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, স্বস্তির জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দুবারের শিরোপাধারী ইংল্যান্ড।