সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষের পথে। তাদের যতটুকু সংস্কার, যতটুকু বিচার ও সুযোগ ছিল—সেগুলোতে দম ফুরিয়ে গেছে।”
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনও সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সীমার মধ্যে চলে এসেছে। এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ভালো নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
অনুষ্ঠানে সিজিএস একটি জরিপের ফলাফলও প্রকাশ করে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্বাচনী অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করেছে। দেশের ৫০৫ জন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য:
| বিষয় | অনুপাত (%) |
|---|---|
| নির্বাচনী অংশগ্রহণে উদ্বিগ্ন | ৫০.৩ |
| নিজেকে অনিরাপদ বা চরম অনিরাপদ মনে করে | ২৫.৪ |
| ভোটে অংশগ্রহণের পূর্বে–পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা | ৪২.১ |
ফলাফল প্রকাশের পর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার কথার সঙ্গে কাজের বাস্তবতা মেলেনি। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক ছাতার নিচে থাকার কথা, কিন্তু সেই ছাতা খুলল না; বৃষ্টি পড়ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচন পর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তবে এখনও সুযোগ আছে অংশগ্রহণ বাড়ানোর। নারীর, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এবং ভিন্নমতের রাজনীতিকদের ভোটের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের উপর আছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “পিছিয়ে পড়া মানুষদের ভোটে আনা এবং ভোটের আগে ও পরে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এটি সরকারের শেষ সুযোগ ভালো কাজের, এবং সঠিকভাবে করলে ইতিহাসে তাদের কিছুটা স্থানও হতে পারে।”
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ও অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।
এই প্রতিবেদন ও জরিপ প্রমাণ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের পরীক্ষা। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে আসন্ন নির্বাচন সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক হবে না।
