অ্যানফিল্ডে সিটি-লিভারপুল লড়াইয়ের তিন কারণ

২০২৫-২৬ মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এখন চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগোচ্ছে। ৩৮ ম্যাচের লিগে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ম্যাচ শেষ। ২৫ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলে ২৪ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি, ব্যবধান ৯ পয়েন্ট। এই ব্যবধানের কারণে অনেকেই মনে করছেন শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালই এগিয়ে।

এমন পরিস্থিতিতে লিভারপুল-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচটি আপাতদৃষ্টিতে শিরোপা-নির্ধারণী নয়। কারণ, গতবারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল বর্তমানে ছয় নম্বরে, ২৫ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে তারা ১৭ পয়েন্ট পিছিয়ে, সিটির চেয়ে ৮ পয়েন্ট কম। তবু অ্যানফিল্ডে আজ রাত সাড়ে দশটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার কমতি নেই। অন্তত তিনটি বড় কারণে প্রিমিয়ার লিগ দর্শকদের চোখ থাকবে এই লড়াইয়ে।

বর্তমান লিগ পরিস্থিতি

দলম্যাচপয়েন্টগোল ব্যবধান*অবস্থান
আর্সেনাল২৫৫৬+২৮ (প্রায়)
ম্যানচেস্টার সিটি২৪৪৭+২২ (প্রায়)
লিভারপুল২৫৩৯+১২ (প্রায়)

*গোল ব্যবধান আনুমানিক, সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।

১. ‘ইংল্যান্ডের এল ক্লাসিকো’

লিভারপুল-সিটি ম্যাচের আনুষ্ঠানিক কোনো উপাধি না থাকলেও গত এক দশকে এটি প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে। পেপ গার্দিওলা ও ইয়ুর্গেন ক্লপ যুগল লড়াই এই ম্যাচকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল। ক্লপ বিদায় নিলেও নতুন কোচ আর্নে স্লট সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইছেন।

স্লট নিজেই এই ম্যাচকে ‘ইংল্যান্ডের এল ক্লাসিকো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসে কোচিং করার সময়ও তিনি সিটি-লিভারপুল ম্যাচের সময়সূচি দেখে টেলিভিশনের সামনে বসতেন বলে জানিয়েছেন।

অ্যানফিল্ড সিটির জন্য ঐতিহাসিকভাবে কঠিন ভেন্যু। গার্দিওলার দল লিভারপুলের বিপক্ষে শেষ ২২ লিগ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে—তবে সেই পরিসংখ্যানের বড় অংশ অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরে। এই ২২ ম্যাচে লিভারপুল জিতেছে ১৪টি, ড্র হয়েছে ৭টি।

এবার অবশ্য সিটির সামনে বিশেষ সুযোগ। মৌসুমের প্রথম লেগে ইতিহাদে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল সিটি। আজ জয় পেলে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো লিভারপুলের বিপক্ষে লিগে ‘ডাবল’ করবে তারা।

২. চোটের ধাক্কা ও প্রত্যাবর্তন

দুই দলই ইনজুরি সমস্যায় জর্জরিত। লিভারপুলের জো গোমেজ সর্বশেষ দুই ম্যাচ মিস করার পর স্কোয়াডে ফিরেছেন, তবে শুরুর একাদশে থাকার মতো পুরোপুরি ফিট নন। জেরেমি ফ্রিম্পং পেশির চোটে অনুপস্থিত। রক্ষণভাগে সীমিত বিকল্প থাকায় স্লটকে কৌশলগত সমন্বয় করতে হতে পারে।

সিটির অবস্থাও খুব আলাদা নয়। টটেনহামের বিপক্ষে চোট পাওয়ায় বের্নার্দো সিলভার খেলা অনিশ্চিত। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির পর রুবেন দিয়াস বেঞ্চে ফিরেছেন, যা শেখর দলের জন্য স্বস্তির সংবাদ। গার্দিওলা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি সীমিত সময়ের জন্য খেলতে পারেন।

৩. গতি ধরে রাখতে মরিয়া সিটি

শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে হলে সিটির জন্য প্রতিটি ম্যাচই এখন কার্যত ‘ফাইনাল’। লিগ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দলটি এখন চার প্রতিযোগিতায়ই টিকে আছে—প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ।

তবে অ্যানফিল্ডে জয় পাওয়া সহজ নয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই মাঠে লিগে জিততে পারেনি সিটি। ফলে আজকের ম্যাচ শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, মানসিক আধিপত্যেরও পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে শিরোপা সমীকরণে সরাসরি প্রভাব না থাকলেও অ্যানফিল্ডের এই লড়াই মৌসুমের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলতে পারে। ইতিহাস, কৌশল, ইনজুরি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ—সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে।