৩ বছরের সন্তানকে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মা পালালেন

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, যেখানে পরকীয়ার প্ররোচনায় মা নিজ সন্তানের জীবন কেড়ে নিয়েছেন। অভিযোগে বলা হচ্ছে, ২৫ বছর বয়সী সেতু বেগম তার ৩ বছরের শিশু সন্তান ফারিয়াকে (৩) হত্যার পর পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মা সেতু বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন, যা সেতু বেগমের স্বামী রুবেল শেখের বাড়ির নিকটস্থ এলাকায় বাসার ট্যাংকে লুকানো ছিল। পুলিশ জানায়, শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল গত ১৭ জানুয়ারি। নিহত শিশুর মা ও পরকীয়া প্রেমিকের মধ্যে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয় প্রায় ছয় মাস আগে। ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার বাড়ৈইহাট গ্রামের মিরাজ মোল্লা এই পরকীয়া প্রেমিক।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিস্তারিত নিম্নরূপ:

তারিখঘটনা
১৭ জানুয়ারি ২০২৬সেতু বেগম তার ৩ বছরের সন্তান ফারিয়াকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
১৭-৩১ জানুয়ারি ২০২৬শিশুর মরদেহ বাসার ট্যাংকে লুকানো থাকে। মা পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পরকীয়া প্রেমিক সেতু বেগমকে ছেড়ে চলে যায়। মা তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসে।
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬পুলিশ, পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর সেতু বেগম হত্যাকাণ্ড স্বীকার করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেতু বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জানান, “আমরা শিশু ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

এই দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় সমাজ ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনা থেকে পরিবার এবং সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা ও সজাগ থাকার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।