আজ সকালে রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা এক সাবেক মন্ত্রী, শিক্ষক ও রাজনীতিক রমেশ চন্দ্র সেন নিঃশব্দে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি জেলখানায় ছিলেন, চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে—এমন মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক দৃষ্টান্ত। পুলিশের নিরাপত্তায় আজ তার দেহ জেল থেকে বাইরে আনা হয়।
রমেশ সেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—দুজনেই শিক্ষকতা করেছেন, দুজনেই রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, দুজনেই মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং দুজনই তাদের দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য ছিলেন। তবুও তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পথের মধ্যে রয়েছে তীব্র বৈপর্য।
| বৈশিষ্ট্য | রমেশ চন্দ্র সেন | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |
|---|---|---|
| পেশা | শিক্ষক | শিক্ষক |
| রাজনীতির শুরু | তৃণমূল আওয়ামী লীগ | ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ, পরে বিএনপি |
| মন্ত্রীত্ব | ছিলেন | ছিলেন |
| দলের উচ্চ পদ | কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম | বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব |
| রাজনৈতিক স্থায়িত্ব | আমৃত্যু আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে | সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হ্রাস |
| পরিবারিক পরিস্থিতি | নিঃসন্তান, স্ত্রী অঞ্জলী সেন | স্ত্রী, দুই কন্যা, জামাই |
| নির্যাতন সম্পর্ক | ৭১-এর নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অংশ | পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন (একাত্তর) |
৫ আগস্টের পর রমেশ সেন নিজের বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি টিম এসে তাকে “নিরাপত্তা” দেওয়ার কথা বলে আধাঘণ্টার জন্য গ্রেপ্তার করে। পরের দিন অজ্ঞাত এক ছাত্রের মামলায় তাকে জেল দেখানো হয়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি—ফিরেছেন লাশ হয়ে।
তমিলমূল রাজনীতিতে রমেশ সেন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ফোরামের দায়িত্ব, মন্ত্রীত্ব ও দলের সম্মান। গত পনেরো বছরে যারা ঠাকুরগাঁও যাতায়াত করেছেন, তারা জানেন তিনি জেলায় কী করেছেন, কী রেখে গেছেন। তার কর্মের ইতিহাস মুছে যাবে না।
রমেশ সেন ছিলেন নিঃসন্তান। স্ত্রী অঞ্জলী সেন ছিলেন তার একমাত্র পরিবারের সদস্য। মৃত্যুর সময়ও স্ত্রী পাশে থাকতে পারেননি। তবু তার এই মৃত্যু জনগণের স্মৃতিতে অম্লান থেকে যাবে।
অন্যদিকে, মির্জা ফখরুল আজ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেঁচে থাকলেও তার রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ক্রমশ কমছে। বিএনপির শীর্ষ সম্মান থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন। পরিবার—স্ত্রী, দুই কন্যা ও জামাই—মিলেও তার হারানো মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না।
রমেশ সেন চলে গেছেন নিঃসঙ্গতায়, তবে স্মৃতি ও সম্মান রেখে।
মির্জা ফখরুল বেঁচে আছেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক “সমাপ্তি” যেন চোখের সামনে ধীরে ধীরে লেখা হচ্ছে। দেশের জনগণ এই দুই রাজনীতিকের বিপরীত পরিণতির প্রেক্ষাপটে আগামী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় রয়েছে।
