ইরানে নারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স পাবেন—এটি দেশটির সংবাদমাধ্যম বুধবার নিশ্চিত করেছে। নতুন রেজল্যুশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান আইনের অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং নারীদের দুই চাকার যানবাহন চালানোর অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃতি মিলেছে।
এর আগে আইনে স্পষ্টভাবে নারীদের মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ছিল না। তবে বাস্তবে নারী নাগরিকদের লাইসেন্স দেওয়া হতো না, ফলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নারীরা আইনি জটিলতায় পড়তেন। এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার একটি রেজল্যুশনে স্বাক্ষর করেছেন। রেজল্যুশনে ট্রাফিক আইনের প্রাসঙ্গিক বিধি আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
ইলনা বার্তা সংস্থা জানায়, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভা এই রেজল্যুশন অনুমোদন দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাফিক পুলিশকে বাধ্যতামূলকভাবে নারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে হবে, পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করতে হবে এবং সফল প্রার্থীদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী রূপ নিয়েছে। সরকার স্বীকার করেছে, আন্দোলনের সময় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও বেশিরভাগ নিহত নিরাপত্তা বাহিনী ও পথচারী।
৩৩ বছর বয়সী অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির কর্মী সাইনা জানান, “গত ছয় মাস ধরে আমি অফিস যাতায়াতের জন্য স্কুটার ব্যবহার করছি। এই পরিবর্তন অনেক দেরিতে এসেছে, তবে ইতিমধ্যে অনেক নারী মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। এটি আমাদের সমাজের মূল সমস্যা নয়।”
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের পোশাক ও সামাজিক আচরণের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। জনসমক্ষে নারীদের মাথা ঢাকতে স্কার্ফ ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং পোশাক সাদাসিধে ও ঢিলা হতে হবে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিধিনিষেধের প্রতি চ্যালেঞ্জ বেড়েছে এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচের টেবিলে নতুন বিধি ও নারীদের মোটরসাইকেল লাইসেন্স সংক্রান্ত মূল দিকগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ | ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা |
| রেজল্যুশন প্রকাশ | জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ, ২০২৬ |
| ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব | ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার তত্ত্বাবধান, লাইসেন্স প্রদান |
| প্রভাবিত জনগণ | নারী মোটরসাইকেল চালকরা |
| সামাজিক প্রেক্ষাপট | সাম্প্রতিক আন্দোলন ও পোশাক-সংক্রান্ত নিয়ম |
| লাইসেন্স কার্যকর | আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমানে শুরু |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন বিধি নারীদের স্বাধীনতা ও চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও সামাজিক ও সংস্কৃতিক বাধা এখনও বিদ্যমান, তবুও এটি ইরানের নারী নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
