দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস’-এর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফিকুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) ড. হুমায়রা সুলতানাকে।
সাফিকুরের অব্যাহতি ও আইনি প্রেক্ষাপট
গত মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে স্পষ্ট জানানো হয় যে, সাফিকুর রহমান ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাবন্দী থাকায় তাঁর সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে। উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসভবন থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এবং তাঁর পরিবার ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক ও নৃশংস শারীরিক নির্যাতন করেছেন। অভিযানে সাফিকুর রহমানের স্ত্রীসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ড. হুমায়রা সুলতানার নতুন দায়িত্ব
বিমানের প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ এবং প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে ড. হুমায়রা সুলতানাকে এমডি ও সিইও-র অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তী পূর্ণকালীন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন থাকবেন। ড. হুমায়রা সুলতানা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এভিয়েশন খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
নিচে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| সাবেক এমডি | মো. সাফিকুর রহমান (চুক্তিভিত্তিক) |
| অব্যাহতির কারণ | গৃহকর্মী নির্যাতন ও ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার |
| বর্তমান এমডি | ড. হুমায়রা সুলতানা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| আদেশ জারি | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
| অভিযোগের ধরণ | শিশু শ্রমিকের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন |
প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংস্থা। এর শীর্ষ পদের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ কেবল ব্যক্তিরই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বিমানে দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার স্বার্থেই দ্রুত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড. হুমায়রা সুলতানার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিমানের যাত্রী সেবার মান বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার মর্যাদা পুনরুদ্ধারে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয় ঘটানো এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সাফিকুর রহমানের এই ঘটনার পর বিমারসহ সকল সরকারি সংস্থায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবনাচরণ এবং নৈতিকতা যাচাইয়ের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে।
