ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যতদিন না ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ কোনো গুরুত্বপূর্ণ ‘সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করছে, রাশিয়ার সেনারা এই দেশে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, মস্কোর অবস্থান অপরিবর্তিত এবং এটি ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে সুপরিচিত।
পেসকভের বক্তব্য, “যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ভর করছে কিয়েভের ওপর। তারা যখনই আমাদের শর্ত গ্রহণ করবে না, আমরা আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখব।” তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আবুধাবিতে শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
রাশিয়ার দাবির মূল পয়েন্ট হলো, কিয়েভকে দোনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ত্যাগ করতে হবে। তবে ইউক্রেন এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চার বছর ধরে চলমান দোনবাস সংঘর্ষে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অঞ্চলটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দোনবাস আংশিকভাবে রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত রয়েছে।
দোনবাসে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে:
| এলাকা | নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ | সাম্প্রতিক ঘটনা |
|---|---|---|
| লুহান্স্ক | আংশিক রাশিয়া | সীমিত সংঘর্ষ, স্থিতিশীল লড়াই |
| দোনetsk | আংশিক রাশিয়া | ইউক্রেনের শক্তিশালী প্রতিরোধ, চলমান হামলা |
| মারিউপল | রাশিয়া | পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে |
| সিভেরোদোনetsk | ইউক্রেন | সীমান্ত লড়াই, প্রতিরোধ অব্যাহত |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই অবস্থান কৌশলগতভাবে চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা, যাতে ইউক্রেনকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে আলোচনায় বাধ্য করা যায়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ধরনের ভূখণ্ড ছাড়বে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে নিজেদের প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে।
অতএব, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা কার্যকর হওয়ার নির্ভরতা কিয়েভের রণনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। মস্কো চায় দোনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে, কিন্তু ইউক্রেন এই দাবির মুখে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে।
চার বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনও শান্তিতে পরিণত হয়নি। রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার কারণে এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা প্রবল। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কিয়েভের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিলে, সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী এবং আরো রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।
