নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণা ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের সহিংস ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের চক গোপাই গ্রামে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর চড়াও হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে তাদের আটজন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের শরীরে আঘাত তুলনামূলক গুরুতর হলেও তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন— জামায়াত কর্মী হাসান প্রামাণিক (৩৮), জাহিদ হাসান (২৫), মোস্তাফিজুর রহমান (৫৮), রুস্তম আলী (৪০) এবং ছাত্রদল কর্মী রাকিব হাসান (২০)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রদল কর্মী রাকিব হাসান অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রচারণার সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে জামায়াতের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুর রহিম ভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণসংযোগ শেষে জামায়াত প্রার্থী আ স ম সায়েম একটি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাইপ ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াতের অন্তত আটজন কর্মী আহত হন।
বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের কর্মীরা প্রচারণার সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষে আহতদের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| পক্ষ | আহতের সংখ্যা | আহতদের অবস্থা |
|---|---|---|
| জামায়াতে ইসলামী | ৮ জন | কয়েকজন গুরুতর আহত |
| বিএনপি/ছাত্রদল | ৫ জন | প্রাথমিক ও মাঝারি আঘাত |
| মোট | ১৩ জন | চিকিৎসাধীন |
সচেতন মহল মনে করছেন, নির্বাচনের মাঠে এ ধরনের সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তারা শান্তিপূর্ণ প্রচারণা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।
