ডেনমার্কে ৬০ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু মনে করে

ডেনমার্কে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জনমতের ধরণ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।ডেনিশ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মিত্র’ হিসেবে দেখছেন, এবং বাকি ২৩ শতাংশ নিরপেক্ষ বা অমীমাংসিত মন্তব্য দিয়েছেন। এই ফলাফল দেশটিতে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।

প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ড, কাগজে ডেনমার্কের অধীনে থাকলেও স্বশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত হিসেবে স্বীকৃত। দ্বীপটির প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি সব মিলিয়ে এটি ডেনমার্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “গ্রিনল্যান্ড ক্রয়” করার আগ্রহ দেশটিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং জনগণের মধ্যে আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ডেনমার্কে প্রথাগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো জোটের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তবুও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর কূটনৈতিক টানাপোড়েন এই মিত্রতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নিম্নে জরিপের মূল ফলাফলগুলো টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত মনোভাবঅংশগ্রহণকারীর শতাংশ (%)
শত্রু60
মিত্র17
নিরপেক্ষ / অমীমাংসিত23

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনমতের এই পরিবর্তন কেবল ট্রাম্পের ঘোষণার কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আর্কটিক অঞ্চলের সম্পদের কারণে ডেনমার্কের সাধারণ মানুষ আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়াও, জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ যদি এই ধরণের আক্রমণাত্মক বা একপাক্ষিক হয়ে থাকে, তাহলে ন্যাটো মিত্র হিসেবে সম্পর্কও হুমকির মুখে পড়তে পারে। যদিও সরকারি পর্যায়ে এখনও দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, জনমত স্পষ্টভাবে এই বন্ধুত্বের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের জনমতের প্রভাব ভবিষ্যতে ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি, ন্যাটো সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওয়াশিংটন এবং কোপেনহেগেনের জন্য পারস্পরিক সম্মান, সংযম এবং কূটনৈতিক সংলাপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

পরিশেষে বলা যায়, ডেনমার্কে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ইতিহাসগত অনেকগুলো কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ এবং কূটনৈতিক অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ড এই ধারা ত্বরান্বিত করেছে।

ডেনমার্কে জনমতের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যা ভবিষ্যতের ন্যাটো নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।