মানিকগঞ্জে ভোটকালীন নিরাপত্তা অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে বিপজ্জনক পরিমাণে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, ককটেল এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানটি গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে লেছড়াগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দুর্গম এলাকায় সংঘটিত হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জ সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম আকরাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াসিম জানান, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় একটি সেতুর নিচ থেকে পাকিস্তান নির্মিত একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল, বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বোমা সেনাবাহিনীর বিশেষ বোম ডিসপোজাল দল নিরাপদভাবে ধ্বংস করেছে। অন্য সকল অস্ত্র ও সামগ্রী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনী সর্বদা সক্রিয় ও সতর্ক। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং যেকোনো সন্ত্রাসী বা ভয়ানক পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা।”

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত রিভলবার, চাপাতি এবং পাঁচটি রিকশার চেইন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিষয়টি পরবর্তীতে আদালতের নিকট পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরূপ:

ক্রমিকউদ্ধারকৃত সামগ্রীপরিমাণ/বিবরণউৎপত্তি/লক্ষণীয় তথ্য
রিভলবার১টিপাকিস্তান নির্মিত
ককটেল৫টিঅগ্নিসংযোগযোগ্য
ধারালো অস্ত্রকিছুচেয়ারে রাখা
বৈদ্যুতিক বোমা১টিসেনাবাহিনী ধ্বংস করেছে
চাপাতি১টিপুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে
রিকশার চেইন৫টিউদ্ধারকৃত, পুলিশ হেফাজতে

এই অভিযান মূলত ভোটকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও জনগণ মনে করছে, যৌথবাহিনী ও পুলিশের এই ধরনের কার্যক্রম ভোট ও সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, এটি সন্ত্রাস ও অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপজেলার মানুষ এই ধরনের অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটকালীন সময়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী আরও সক্রিয় থাকবে।