অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না: ব্যারিস্টার তানিয়া আমির

নেতৃত্বশীল আইনজীবী ও বিএনপির মুখপাত্র ব্যারিস্টার তানিয়া আমির সাম্প্রতিক একটি টক শোতে বলেছেন, প্রবাসীদের জন্য চালু করা পোস্টাল ব্যালট একটি বড় ধরনের জালিয়াতি, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে গভীরভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে, যার ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের কোনও সম্ভাবনা রইল না।

তিনি বলেন, “প্রবাসী ভোটের ব্যবস্থাপনা এমনভাবে করা হয়েছে যে, এটি আসলে ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস করছে। ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার নিরাপদভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তানিয়া আমির আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারপারসন তারেক জিয়া নিজেও গণভোটের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন রাজনৈতিক নেতা যখন গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেন, তখন সেই ভোটের ন্যায্যতা নিয়ে সন্দেহ স্বাভাবিকভাবেই জন্মে।”

বর্তমান সরকারের নির্বাচন কমিশনের সাথে সরাসরি সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে, তিনি বিএনপিকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার শুধু নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নয়, বরং বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা দলের জন্য অকার্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”

তানিয়া আমিরের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিএনপির উচিত নির্বাচনের বাইরে থেকে অবস্থান নেওয়া এবং ভোটের প্রক্রিয়াকে জনসাধারণের সামনে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার জন্য সোচ্চার থাকা।

নিচের টেবিলে তিনি উল্লেখিত মূল বক্তব্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়ব্যারিস্টার তানিয়া আমিরের বক্তব্য
প্রবাসী ভোটপোস্টাল ব্যালট জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করছে
নির্বাচনের স্বচ্ছতাপুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে ম্যানিপুলেট করা হচ্ছে
তারেক জিয়ার অবস্থানগণভোটের বিপক্ষে স্পষ্ট মনোভাব
সরকারের পরিস্থিতিনির্বাচন কমিশন ও বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত
বিএনপির করণীয়নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ও স্বচ্ছতা রক্ষায় সোচ্চার থাকা

তানিয়া আমিরের এই বক্তব্য নির্বাচনের অবস্থা, প্রবাসী ভোট ও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তার মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, প্রবাসী ভোটের মাধ্যমেও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।