খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬, ২:৫৬ এএম

বাংলার হাজার বছরের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য, নিজস্ব নাট্যরীতি এবং গীতিনাট্যের আবেদনকে সমকালীন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘গীতরঙ্গ উৎসব’। সাংস্কৃতিক সংগঠন ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের এই মহতী উদ্যোগ আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হবে। কেবল বিনোদন নয়, বরং হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করানো এবং শিকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপনই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
Table of Contents
বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো গীতল পরিবেশনা ও নাট্যচর্চা। সময়ের বিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এই ধারাগুলো অনেকটা ম্লান হয়ে পড়লেও ভৈরবী গীতরঙ্গ দল দীর্ঘদিন ধরে তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্দেশক ইলিয়াস নবী ফয়সাল মনে করেন, গীতরঙ্গ কেবল পারফরম্যান্স নয়, বরং এটি বাংলার মাটির এক শৈল্পিক ভাষা। এই উৎসবের মাধ্যমে দর্শকদের সাথে শিল্পের একটি জীবন্ত সংযোগ স্থাপন এবং বিকল্প নাট্যচর্চাকে উৎসাহিত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।
তিন দিনের এই উৎসবে থাকছে বৈচিত্র্যময় আয়োজন, যা চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে সরাসরি নাট্য পরিবেশনা পর্যন্ত বিস্তৃত। নিচে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ সূচি তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় | অনুষ্ঠানের নাম | ভেন্যু / স্থান |
| ৩১ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৬:০০ | চলচ্চিত্র প্রদর্শনী: ‘হীরক রাজার দেশে’ | ভৈরবী অফিস, ধানমন্ডি |
| ১ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৭:০০ | গীতল সন্ধ্যা (সাংস্কৃতিক আড্ডা ও গান) | শিল্পকলা একাডেমি, মঞ্চ-২ (চিলেকোঠা) |
| ২ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৬:০০ | গীতরঙ্গ প্রযোজনা: ‘সোনাই’ | শিল্পকলা একাডেমি, স্টুডিও থিয়েটার হল |
উৎসবের প্রথম দিনে ধানমন্ডিতে প্রদর্শিত হবে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টি। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা ও সামাজিক বার্তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় দিনে শিল্পকলা একাডেমির চিলেকোঠায় আয়োজিত হবে গানের আসর, যেখানে লোকজ সুরের মূর্ছনায় মাতবেন উপস্থিত সুধীজন।
উৎসবের সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে গীতরঙ্গ প্রযোজনা ‘সোনাই’। ইলিয়াস নবী ফয়সালের রচনা ও নির্দেশনায় এই নাটকে লোকজ আখ্যানকে আধুনিক মঞ্চভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হবে, যা দর্শকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেবে।
ভৈরবী গীতরঙ্গ দল একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সাংস্কৃতিক সংগঠন। দীর্ঘকাল ধরে দেশীয় সংস্কৃতি, গীতিনাট্য এবং তৃণমূলের শিল্পধারা নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করছে এই দলটি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগ তৈরি করতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য বা নিবন্ধন ফি রাখা হয়নি। তবে মিলনায়তনের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় দর্শকদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সরাসরি উপস্থিত হয়েও অনুষ্ঠান উপভোগ করা যাবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আয়োজক সংগঠনের সামাজিক মাধ্যম ও দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য