মাদারীপুরে উন্নত জীবন ও বৈধ কর্মসংস্থানের আশায় ১০ জন যুবক লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্নে দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তবে গত ১০ মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের হস্তক্ষেপে সন্তানদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন চেয়েছেন।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার পেয়ারার বেগমের প্রলোভনে পড়ে যুবকরা বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রত্যেককে সরাসরি ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রাথমিকভাবে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা বাড়ি ছাড়েন, কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছে তাদের আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণের নামে আরও লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
পরিবারগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রের নেতৃত্ব দেন পেয়ারার বেগমের বড় ছেলে ফারদিন ঢালী এবং ছোট ছেলে সৌরভ, যাদের সহায়তায় শরীয়তপুরের জালাল কাজীর ছেলে সবুজ কাজী ও লিয়াকত শেখের ছেলে মুজাহিদ শেখ চক্রে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, চক্রের আদায়ের অর্থে রাতারাতি তারা ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নিখোঁজ যুবকদের মধ্যে এক পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলো লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিচের টেবিলে নিখোঁজ যুবকদের বিস্তারিত পরিচয় ও বয়স উল্লেখ করা হলো:
| নাম | পিতার নাম | ইউনিয়ন/এলাকা | বয়স (বছর) |
|---|---|---|---|
| লিমন বেপারী | আনোয়ার বেপারী | কেন্দুয়া, নয়াকান্দি | ১৯ |
| রবিউল মাতুব্বর | হেমায়েত মাতুব্বর | কেন্দুয়া, নয়াকান্দি | ২২ |
| জয় মাতুব্বর | টিটু মাতুব্বর | দত্তেরহাট | ২০ |
| জীদান হোসেন হাওলাদার | Moktar হাওলাদার | দত্তেরহাট | ১৮ |
| ওয়ালিদ হাসান অভি | জুলহাস চোকদার | মোস্তফাপুর, গাছবাড়িয়া | ১৯ |
| মোহাম্মদ আলী | — | পেয়ারপুর, মাছকান্দি | ২২ |
| শরিফুল ইসলাম | আবুল বাশার মাতুব্বর | রাজৈর, বাজিতপুর, মাচ্চর | ২৭ |
| আজমুল খাঁ | হাশেম খাঁ | রাজৈর, পাখুল্লা | ৩০ |
| তুহিন মজুমদার | কালু মজুমদার | মোল্লাকান্দি | ২৩ |
| মাহাবুব | — | নতুন বাস স্ট্যান্ড, শহর | ২১ |
নিখোঁজ লিমনের বাবা আনোয়ার বেপারী বলেন, “পেয়ারার বেগমের প্রলোভনে পড়ে বাধ্য হয়ে পাসপোর্ট ও টাকা দিয়েছি। লিবিয়ায় আটকে রেখে মোট ২৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ১০ মাসেও কোনো খোঁজ পাইনি।”
শরিফুলের মা রাজিয়া বেগম যোগ করেছেন, “আমার ছেলে বেঁচে আছেন কি মারা গেছেন, জানি না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করছে এবং সকল নিখোঁজ যুবকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
