স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে জামিন পেলেন সাদ্দাম

বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম তার স্ত্রী ও ৯ মাসের সন্তানকে হারানোর পাঁচ দিন পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। এরপর রাতেই সাদ্দাম পরিবারের সঙ্গে কবর জিয়ারত করেন এবং স্ত্রীর ও সন্তানের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

সাদ্দাম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি এক হতভাগা স্বামী, এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। হে খোদা, তুমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে ক্ষমা করো। যদি তারা হত্যার শিকার হয়ে থাকে, আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।”

তার অভিযোগ, “আমি মনে করি, স্ত্রী-সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি অনেকবার জামিনের আবেদন করেছি, কিন্তু জামিন হয়নি। আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।”

সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরামের ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। হাইকোর্ট সোমবার তাঁকে ছয় মাসের জামিন প্রদান করে।

ঘটনার সময়রেখা

তারিখ ও সময়ঘটনা
২৩ জানুয়ারি দুপুরসাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাসের ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার।
২৪ জানুয়ারিবাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত। মা ও ছেলের মরদেহ সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়।
২৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটমরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সাদ্দাম শেষবার মরদেহ দেখে।
২৪ জানুয়ারি রাতস্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত। পারিবারিক কবরস্থানে দাফন।
২৭ জানুয়ারি দুপুর ২টাসাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য ভাগে অনীহা দেখায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাংবাদিকরা কারাফটকের বাইরে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি। যশোর কারাগারের জেলার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, “সদরের নির্দেশে প্রশাসন গণমাধ্যমকে কথা বলতে বাধা দিয়েছে। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছানোর পর আমার ভাই স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন।”

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আসিফ উদ্দীন নিশ্চিত করেন, “সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”