বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি পাঁচ বছরের বেশি দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করলে কর্মকর্তাদের মানসিকতা স্থির হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা হ্রাস পায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে দশ বছর পর নতুন করে সাজানো উচিত, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তিত হলেও অনেক কর্মকর্তা আগের ধারণা ও প্রথা ধরে রাখেন।”
ড. ইউনূস এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে তিনি ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ ওয়েবসাইট ও লোগোও উন্মোচন করেন।
তিনি আরও বলেন, “সবাইকে চাকরির দিকে না ঝুঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত। সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণা একটি ভুল এবং এটি আধুনিক সমাজে দাস প্রথার মতো প্রভাব ফেলে। সরকারের দায়িত্ব হলো উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করা, যাতে তারা নতুন উদ্যোগ ও ব্যবসা শুরু করতে পারে।”
ড. ইউনূস দেশের যুবসমাজকে উদ্দীপিত করতে বলেন, “জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য দেন:
| কর্মকর্তা | পদবী/প্রতিষ্ঠান |
|---|---|
| মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা | বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক |
| মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম | বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, সভাপতি |
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস সম্পর্কে অবগত হন। তিনি উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে বাংলাদেশে সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন এবং বলেন, “দেশের যুবসমাজ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।”
ড. ইউনূসের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি চাকরিকে সীমিত রেখে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করবে।
