কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদী সীমান্তবর্তী এলাকায় মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলো হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মো. সোহেল (১৬) ও মো. ওবাইদুল্লাহ (১৭)। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজারের উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গ্রামীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় দুই কিশোর নৌকা নিয়ে নাফ নদীতে মাছ ধরছিল। হঠাৎ মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকা লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই আহত কিশোরদের আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, “নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় দুই কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। তাদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এটি সীমান্তে আরাকান আর্মির একটি সক্রিয় হামলার ফলাফল।”
নাফ নদী ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় জানুয়ারির শুরু থেকে কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিম্নরূপ:
| তারিখ | ঘটনা | আহত/হত ব্যক্তি | চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|---|---|
| ১১ জানুয়ারি | নাফ নদী থেকে আসা গুলিতে শিশু আহত | হুজাইফা আফনান (৯) | ঢাকায় চিকিৎসাধীন |
| ১২ জানুয়ারি | সীমান্তের লম্বাবিল এলাকায় মাইন বিস্ফোরণ | মোহাম্মদ হানিফ, মাছ চাষি, পা হারান | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ২৭ জানুয়ারি | মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই কিশোর আহত | মো. সোহেল (১৬), মো. ওবাইদুল্লাহ (১৭) | উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতাল |
সীমান্ত এলাকায় অনিয়মিত ও সশস্ত্র হামলার বৃদ্ধি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, গুলিবর্ষণ ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্ত পারাপারে অনধিকার প্রবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।
নিরাপত্তা বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা সীমান্ত এলাকায় পেট্রোল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে শিশু ও সাধারণ মানুষদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
