যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তুষারঝড় ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগের প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার ব্যাহত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তার শহরে গত দুই দিনে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, বাকিরা হাইপোথার্মিয়ার কারণে মারা গেছেন। হাইপোথার্মিয়া এমন এক শারীরিক অবস্থার নাম যেখানে তীব্র ঠাণ্ডায় দীর্ঘ সময় কাটালে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, যার ফলে কাঁপুনি, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
উত্তর মেরু থেকে আসা হিমেল বাতাসের কারণে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ, যার মধ্যে ২০ কোটিরও বেশি মানুষকে ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বর্তমানে পুরু তুষারস্তরে ঢাকা।
এদিকে বিদ্যুৎ চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা পর্যবেক্ষণ সংস্থা পাওয়ার আউটেজ ডট কম অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত অন্তত ৬ লাখ ৭০ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ খোলা হবে না। সাধারণ জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমান চলাচলেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে গত রোববার বাতিল হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট, আর সোমবার বাতিল হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। করোনা মহামারির পর এটি যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলোঃ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃতের সংখ্যা | ৩০ জন |
| সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর স্থান | নিউইয়র্ক সিটি (৫ জন) |
| বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বাড়িঘর | ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি |
| জনসংখ্যা ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ এর অধীনে | ২০ কোটিরও বেশি |
| বাতিল ফ্লাইট (রোববার) | ১৭,০০০+ |
| বাতিল ফ্লাইট (সোমবার) | ১০,০০০+ |
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে তুষারঝড় ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ জীবনযাপন, যাতায়াত, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ পরিষেবা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়াগত পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিপদ সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।
