ট্রাম্প ২৫% শুল্ক বসালেন দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভাকে দায়ী করেছেন, যেটি তার মতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করেনি।

ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি কার্যকর করা তাদের অধিকার, কিন্তু চুক্তি না মানা পর্যন্ত আমরা শুল্ক বাড়াচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, নতুন শুল্ক গাড়ি, কাঠ, ওষুধ এবং অন্যান্য শুল্কযোগ্য পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই পণ্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে এই পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিচের টেবিলটিতে ২০২৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া প্রধান পণ্যের তথ্য দেখানো হলো:

পণ্যের ধরনআমদানি মান (বিলিয়ন ডলার)প্রাথমিক শুল্ক (%)নতুন শুল্ক (%)
গাড়ি ও যন্ত্রাংশ৫৮১৫২৫
সেমিকন্ডাক্টর৩২১৫২৫
ইলেকট্রনিক পণ্য২০১৫২৫
কাঠ ও কাঠজাত পণ্য১২১৫২৫
অন্যান্য পণ্য১০১৫২৫

চলতি বছরের জুলাই মাসে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই চুক্তির আওতায় শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে সরাসরি ২৫ শতাংশে বাড়ানো হয়নি এবং কিছু আমদানি করা গাড়ির ওপর বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। তবে নতুন ঘোষণায় সেই সুবিধা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এছাড়া ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা চলছে, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে— প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট কোনো দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা আছে কি না। যদি আদালত সরকারের বিপক্ষে রায় দেন, তাহলে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে এই ধরনের শুল্ক পরিবর্তন করতে নাও পারেন।

এর আগে ট্রাম্প কানাডা এবং অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছিল, এবং গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত বিরোধের কারণে কিছু দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে শেষের সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।

মোটের ওপর, ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আমদানির খরচ ও বাজারমূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।