জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সোমবার সকাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশের কারণে দুটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজন করে এই সমাবেশ, যা হঠাৎ ক্লাস চলার সময় শুরু হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রত্যাশিত বিরক্তির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি পরিচিতি অনুযায়ী চরমোনাই পীর।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সমাবেশে ব্যবহৃত লাউডস্পিকারের উচ্চ শব্দের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থীরা ক্লাস চালিয়ে যেতে পারেনি, আর নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত ক্লাস ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
উপজেলার ইসলামি আন্দোলন জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের হাতপাখার প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদারের সমর্থনে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
নিচে দুটি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিদ্যালয় নাম | প্রধান শিক্ষক | ক্লাস বন্ধের সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | মর্জিনা চৌধুরী | ১১:৩০ থেকে | ছোট শিক্ষার্থীরা উচ্চ শব্দের কারণে ক্লাস চালাতে পারেনি |
| বকশীগঞ্জ নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় | মামুনুর রশীদ | ১১:৩০ থেকে | উচ্চ শব্দে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেছে |
নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ জানান, “সমাবেশের জন্য আগের দিন বিদ্যালয় মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাইকের আওয়াজ শুরু হলে দুই পিরিয়ডের ক্লাস চালানো সম্ভব হয়নি।”
মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মর্জিনা চৌধুরী বলেন, “ছোট বাচ্চারা এমন উচ্চ শব্দের মধ্যে ক্লাস চালাতে পারবে না, যা শিক্ষার ক্ষতি করছে।”
হাতপাখার নির্বাচন সমন্বয়কারী হামিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “উপজেলায় সরকারি কোনো মাঠ না থাকায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেছি।” তবে নূর মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই ফোন ধরেননি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা দেখার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছি।”
স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বিভ্রাট এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাতের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
