চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে উন্নতি ও বিকাশ লাভ করেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
শি জিনপিং বলেন, “গত এক বছরে চীন–ভারত সম্পর্ক স্থিতিশীল ও ইতিবাচকভাবে বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সবসময় বিশ্বাস করে যে ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই চীন ও ভারতের জন্য সঠিক পথ।”
তিনি চীন–ভারত সম্পর্ককে রূপকভাবে ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “উভয় দেশ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করবে। একই সঙ্গে একে অপরের উদ্বেগের সমাধান করে সুস্থ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা রাখি।”
পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। ১৯৫০-এর দশক থেকে এই সীমান্ত বিবাদ দেখা যাচ্ছে। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ভারতীয় বাহিনীর ২০ জন এবং চীনা পক্ষের কয়েকজন সেনা নিহত হন। এই ঘটনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একপর্যায়ে তীব্র উত্তেজনার মুখোমুখি হয় এবং উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে।
তবে ২০২৪ সাল থেকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতির প্রেক্ষাপটে চীন ও ভারত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সম্পর্কের প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেখা যাচ্ছে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সীমান্ত দৈর্ঘ্য | প্রায় ৩,৮০০ কিমি, পুরোপুরি নির্ধারিত নয় |
| প্রধান সংঘর্ষ | ২০২০, গালওয়ান উপত্যকা, ভারতীয় সেনা ২০ জন নিহত |
| সাম্প্রতিক উন্নয়ন | ২০২৪–২৫ উচ্চপর্যায়ের সফর, সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনঃস্থাপিত |
| বাণিজ্য ও বিনিয়োগ | উভয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র নীতির প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সম্প্রসারণে মনোযোগী |
| সম্পর্কের রূপক | ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ’ |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্তবিবাদ থাকা সত্ত্বেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চীন–ভারতের সম্পর্ককে একটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে পরিচালিত করছে। শি জিনপিংয়ের মন্তব্য, উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও গভীর করার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
