নিশ্চিত মানদণ্ডে বীমা উপদেষ্টা নিয়োগের নির্দেশিকা

বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নির্দেশিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ গেজেট-এর অতিরিক্ত সংখ্যায়, বুধবার ২১ জানুয়ারি, তবে এটি কার্যকর হয় ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে।

নতুন নিয়মের পূর্ণ নাম “বীমা কোম্পানির উপদেষ্টা নিয়োগ (যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা) বিধিমালা, ২০২৬”। এটি বীমা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৪৮ ও ৮১-এর অধীনে, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রণীত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি উপদেষ্টা নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করবে এবং সারা খাতে পেশাদার মান নিশ্চিত করবে।

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেষ্টার পদে নিয়োগ পেতে পারবেন এবং আইডিআরএ-এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন পেশাগত পথে প্রার্থী এই পদের জন্য যোগ্য হতে পারেন।

যোগ্যতার ধরনন্যূনতম অভিজ্ঞতা
সিইও বা সমমানের পদে অভিজ্ঞতা৩ বছর
আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বীমা/অ্যাকচুয়ারিয়াল সার্টিফিকেশন৩ বছর
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি সার্টিফিকেট৬ বছর
হিসাববিজ্ঞান/ফাইন্যান্স পেশাদার সার্টিফিকেশন৬ বছর
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি নীতি পর্যায়ের কর্মকর্তানির্ধারিত
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবিস্তৃত অভিজ্ঞতা
কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজমেন্টে দায়িত্ব৬ বছর

সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পদে সিইও, এমডি, অতিরিক্ত/ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সিএফও, কোম্পানি সেক্রেটারি, প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা, প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা এবং অভ্যন্তরীণ অডিট ও কমপ্লায়েন্স প্রধান অন্তর্ভুক্ত।

অযোগ্যতা

উপদেষ্টা হিসেবে কিছু ব্যক্তিকে নিয়োগে বাধা রয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্ত: প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকের আত্মীয়, দেনাদার, দেউলিয়া ব্যক্তি, নৈতিক বা আর্থিক অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বর্তমান ব্যাংক, বীমা বা ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মেয়াদ

কোম্পানিগুলোকে নিয়োগের জন্য কারণ, চুক্তিপত্রের খসড়া, জীবনবৃত্তান্ত ও শিক্ষাগত ও পেশাগত সার্টিফিকেট আইডিআরএ-তে জমা দিতে হবে। উপদেষ্টার চুক্তি সর্বাধিক তিন বছরের জন্য হতে পারে এবং বয়সসীমা ৭৬ বছর। এই পদগুলো কোম্পানির স্থায়ী কর্মী হিসেবে গণ্য হবে না।

বেতন ও চুক্তি সমাপ্তি

বেতন ও সুবিধা বোর্ড নির্ধারণ করবে, তবে সিইও-এর বেতন অতিক্রম করতে পারবে না। চুক্তি মেয়াদের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না এবং দুই পক্ষই এক মাসের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে, তবে সকল অর্থনৈতিক দায় পরিশোধের শর্তে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিধিমালা উপদেষ্টা নিয়োগকে পেশাদার করবে, নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক সুরক্ষা ও খাতের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।