ইরান শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের আক্রমণকে তারা “পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ” হিসেবে গণ্য করবে। তেহরানের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশটি সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে বিশাল আকারের নৌবহর পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হচ্ছে। 이에 প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানি কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে এবং সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
গোপন শর্তে নাম প্রকাশ না করা অবস্থায় এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা আশা করি এই সামরিক মোতায়েন সরাসরি সংঘর্ষের উদ্দেশ্য নয়। তবে আমরা খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, আমরা নির্দ্বিধায় প্রতিক্রিয়া দেখাব। প্রতিক্রিয়ার প্রকৃতি প্রকাশ করা হবে না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, “আমাদের নৌবহর ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না।” তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছেন।
নিচের টেবিলটিতে সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে সংঘটিত সামরিক মোতায়েন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| তারিখ | যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ | ইরানের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| জুন ২০২৫ | মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি | প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি |
| জানুয়ারি ২০২৬ | পারস্য উপসাগরে নৌবহর মোতায়েন | পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সতর্কতা |
| বর্তমান | সংঘর্ষ প্রতিরোধে নৌবাহিনী প্রস্তুত | সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় |
ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র মাঝে মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে, সাধারণত এটি ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা স্বতন্ত্র: ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে সীমিত বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলাকেও তারা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সমতুল্য গণ্য করবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক চাপের সংমিশ্রণ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুটে।
এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দুর্বলতা প্রকাশ করছে, যেখানে উভয় পক্ষই সতর্ক করে দিচ্ছে যে কোনো ভুল গণনা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, noting যে ছোট কোনো ঘটনা দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
