২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। সাধারণত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এই কার্যক্রমে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার তত্ত্বাবধায়ক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ১০-দলীয় জোটের নেতৃত্বে জামায়াত-ই-ইসলামির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে। তবে প্রচারণার শুরুতেই দুইপক্ষের নেতারা তীব্র সমালোচনা এবং একে অপরের প্রতি অভিযোগবাণ প্রকাশ করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছেন।
প্রথম দুই দিনের, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের, প্রচারণা বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে যে উভয় দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ অভিযোগ বিনিময় করছেন। বিএনপি জামায়াতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, ধর্মীয় অনুভূতি ভ্রান্তভাবে ব্যবহার, এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী জালিয়াতি চালানোর জন্য দায়ী করেছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বিএনপির দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, জোরপূর্বক অর্থ আদায় ও তাদের “নব-ফ্যাসিবাদী” কার্যক্রমের উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
নেতাদের র্যালি ও মূল বক্তব্য
| নেতা | স্থান | র্যালির সংখ্যা | প্রধান অভিযোগ/মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| তারিক রহমান (বিএনপি) | ঢাকা (ভাষানটেক), সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নারসিংদী, নারায়ণগঞ্জ | ৮ | জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান, ধর্মীয় ভ্রান্ত ব্যবহার, নির্বাচনী জালিয়াতি |
| শফিকুর রহমান (জামায়াত) | ঢাকা (মিরপুর), পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর | ৫ | বিএনপির দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদ, সামাজিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির সমালোচনা |
বিএনপির তারিক রহমান সরাসরি জামায়াতের নাম উল্লেখ না করলেও তাদের স্বাধীনতা বিরোধী ইতিহাসের সমালোচনা করেছেন। তিনি ধর্মীয় ব্যবহার করে “স্বর্গের টিকিট” প্রদানের প্রচেষ্টা “শির্ক” ও “কুফর” বলে উল্লেখ করেছেন এবং ডাক ভোট ও জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরের অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার হওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন।
অপরদিকে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান বিএনপির “পরিবার কার্ড” পদ্ধতি ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিকে প্রতীকী হাতছানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেছেন, “নির্বাচনের সময় উভয় দলের মধ্যে সমালোচনা স্বাভাবিক। তবে জাতীয় অগ্রাধিকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা। রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্যই হতে পারে, কিন্তু গ্রহণযোগ্য সীমার বাইরে যাবে না।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিদেশী প্রভাব, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ধর্মীয় ব্যবহার, দুর্নীতি, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং নব-ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম নিয়ে তীব্র বিতর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মুখোমুখি প্রতিযোগিতা, যা উভয় দলের প্রচারণা ও জনমত বিন্যাসের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে।
