দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় গভীর রাতে এলজিইডি পার্কে অযৌক্তিকভাবে অবস্থান করায় ৫২ জনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে পরিচালিত এই অভিযানে পার্কের প্রতিটি অঞ্চল পরিদর্শন করা হয়। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন যুবক, যুবতী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “গভীর রাতের অপ্রয়োজনীয় জমায়েত জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনশৃঙ্খলা এবং পার্ক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯১ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৩,০০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রাতেই অর্থদণ্ড আদায় করে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডি পার্কটি মূলত যুবক ও তরুণীদের সামাজিক, বিনোদনমূলক এবং বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে গভীর রাতে অগোছালোভাবে মানুষের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে অসুবিধা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে। প্রশাসনের মতে, এমন জমায়েত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে যায় এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিযান ও জরিমানার বিস্তারিত নিম্নে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | আটক ব্যক্তির সংখ্যা | ধারা অনুযায়ী জরিমানা (প্রতি ব্যক্তি) | মোট অর্থদণ্ড | অভিযান স্থান | তারিখ ও সময় |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ৫২ | ৩,০০০ টাকা | ১,৫৬,০০০ টাকা | এলজিইডি পার্ক, বিরল | ২২ জানুয়ারি, মধ্যরাত |
মোট আদায় করা অর্থদণ্ডের পরিমাণ ১,৫৬,০০০ টাকা। প্রশাসন জানিয়েছে, ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান জনসাধারণকে আইন মেনে চলার গুরুত্ব বোঝানোর পাশাপাশি পার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিতভাবে চালানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্কটি সাধারণত সামাজিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু গভীর রাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জমায়েত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা জনগণকে আইন মেনে চলার দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা সম্পর্কে জাগ্রত করবে।
ভ্রাম্যমান আদালতের এই অভিযান প্রমাণ করে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা রাতের বেলায়ও সক্রিয়ভাবে জনগণের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং সাধারণ শান্তি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে স্থানীয় জনগণ আরও দায়িত্বশীল হবে এবং পার্ক ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা ও নিয়মিত আচরণের গুরুত্ব আরও ভালভাবে অনুধাবন করবে।
