আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা এবং জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মিরপুর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
Table of Contents
জামায়াত আমিরের জনসভা ও নিরাপত্তা জোরদার
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এই আসন থেকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিরপুর এলাকায় সমবেত হন। বড় ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা নিরসনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজিবি সদর দপ্তরের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। তাঁরা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সহিংসতা মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
মিরপুর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত সারণি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| মোতায়েনকৃত বাহিনী | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। |
| নির্দিষ্ট এলাকা | মিরপুর-১০, আদর্শ স্কুল সংলগ্ন এলাকা। |
| মূল প্রেক্ষাপট | জামায়াত আমিরের নির্বাচনি জনসভা ও প্রচারণা। |
| উদ্দেশ্য | আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনি সহিংসতা রোধ। |
| নিরাপত্তার ধরণ | ভ্রাম্যমাণ টহল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | কঠোর নজরদারি ও স্থিতিশীল পরিবেশ। |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ও জনমনে প্রভাব
মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে শুরু করে আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হওয়ায় যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বিজিবির উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি পরিলক্ষিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনি সময়ে এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে যাতায়াত ও কেনাকাটা করতে পারে।
প্রশাসনের সতর্ক বার্তা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে কোনো বাধা নেই। তবে যদি কেউ প্রচারণার আড়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাঙচুর বা জনগণের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও মাঠে সক্রিয় রয়েছে যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে।
উপসংহার
নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন এটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ, যা বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখবে।
