কেরানীগঞ্জে মা–মেয়ে হত্যায়,স্বামী রিমান্ডে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট থেকে মা ও কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। এ ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের স্বামী হুমায়ুন কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ বলছে, আর্থিক লেনদেন ও ঋণের জামিনদারি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা জেলা প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই সুমাইয়া আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী নাশিদুস জামান রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। সব দিক বিবেচনা করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নির্ণয় এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করতে হুমায়ুন কবিরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এর আগে ১৭ জানুয়ারি সকালে কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও মামলার মূল নথি না থাকায় সেদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং রিমান্ড শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিখোঁজের ২১ দিন পর গত ১৪ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে রোকেয়া রহমান (৩২) ও তাঁর মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)-এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসাটি ছিল ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাট, যেখানে তিনি স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পুলিশ ধারণা করছে, ঋণের টাকার জামিনদারি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই তাঁদের হত্যা করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে ফাতেমা পড়তে যাওয়ার কথা বলে মিম আক্তারের বাসায় যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। একই দিন সন্ধ্যার দিকে নিখোঁজ হন তাঁর মা রোকেয়া রহমান। স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে দীর্ঘদিনেও কোনো সন্ধান না মেলায় ৬ জানুয়ারি অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি মিম আক্তার ও তাঁর বোন নুরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে নুরজাহানের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাঁকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মিম আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

তারিখঘটনা
২৫ ডিসেম্বরফাতেমা ও রোকেয়া রহমান নিখোঁজ
২৫ ডিসেম্বরসাধারণ ডায়েরি (জিডি)
৬ জানুয়ারিঅপহরণ মামলা দায়ের
১৪ জানুয়ারিমা–মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
১৪ জানুয়ারিমিম আক্তার ও নুরজাহান গ্রেপ্তার
১৭ জানুয়ারিহুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার
২১ জানুয়ারিহুমায়ুন কবিরের ৩ দিনের রিমান্ড

পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য, সময়কাল এবং জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে তারা আশাবাদী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।