আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ২০২৩ আসরের মহানাটকীয় ফাইনালের পরও মরক্কোর ফুটবলপ্রেমীরা দারুণ একটি ইতিবাচক খবর পেয়েছে। ৫০ বছর পর শিরোপা জয়ের খুব কাছে পৌঁছে ব্যর্থ হলেও ‘আটলাস লায়ন্সরা’ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ইতিহাসে সেরা অবস্থানে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী মরক্কো তিন ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার পর তারা দশম স্থানে ছিল। বিশেষ উল্লেখযোগ্য, ১৯৯৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মরক্কোর সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল ১০ম।
ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেনেগালও র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছে। সাদিও মানের নেতৃত্বাধীন দল সাত ধাপ উন্নতি করে এখন ১২তম স্থানে রয়েছে। এর আগে তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল ২০২৪ সালে ১৭তম।
অন্যদিকে, আফ্রিকার ইতিহাসে কোনো দলের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং এখনো নাইজেরিয়ার দখলে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়া পঞ্চম স্থানে পৌঁছেছিল। আর আরব দেশগুলোর মধ্যে মিসর ২০১০ সালে নবম স্থানে পৌঁছেছিল।
আফকন ২০২৩-এর ফলাফলের পর আফ্রিকার অনেক দলের র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ জয়ী নাইজেরিয়া ৭৯.০৯ পয়েন্ট অর্জন করে ১২ ধাপ উন্নতি করেছে এবং ২৬তম স্থানে উঠে এসেছে। সমানভাবে ক্যামেরুনও ১২ ধাপ এগিয়ে ৪৫তম স্থানে অবস্থান করছে।
সেমিফাইনালিস্ট মিসর চার ধাপ উন্নতি করে ৩১তম স্থানে অবস্থান করছে, যা আলজেরিয়ার তিন ধাপ নিচে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া গ্যাবন ৪৪.৯৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৮৬তম স্থানে নেমেছে। সবচেয়ে বেশি ধাপ নেমেছে গিনি, তারা ১০ ধাপ পিছিয়ে ১০৭তম স্থানে রয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সাত দলের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শীর্ষে স্পেন, দুইয়ে আর্জেন্টিনা, এরপর যথাক্রমে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস।
নিচে আফ্রিকার শীর্ষ দলগুলোর র্যাঙ্কিং সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| দল | বর্তমান র্যাঙ্ক | পূর্বের র্যাঙ্ক | ধাপ পরিবর্তন | সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং |
|---|---|---|---|---|
| মরক্কো | ৮ | ১১ | +3 | ৮ |
| সেনেগাল | ১২ | ১৯ | +7 | ১২ |
| নাইজেরিয়া | ২৬ | ৩৮ | +১২ | ৫ |
| ক্যামেরুন | ৪৫ | ৫৭ | +১২ | ৩৫ |
| মিসর | ৩১ | ৩৫ | +৪ | ৯ |
| আলজেরিয়া | ২৮ | ২৫ | -৩ | ৮ |
| গ্যাবন | ৮৬ | ৪১ | -৪৫ | ৩৫ |
| গিনি | ১০৭ | ৯৭ | -১০ | ৭৫ |
এবার আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে মরক্কো ও সেনেগালের র্যাঙ্কিংয়ে এই লাফ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তাদের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে।
