বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন নাভিন, দুশ্চিন্তায় আফগানিস্তান

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বড় ধরণের ধাক্কা খেল আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। দলের অন্যতম ‘ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট’ পেসার নাভিন-উল-হক কাঁধের পুরনো চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। কেবল বিশ্বকাপই নয়, এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাঁকে পাচ্ছে না আফগানরা। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) নিশ্চিত করেছে যে, চলতি মাসের শেষের দিকে নাভিনের কাঁধে অস্ত্রোপচার করা হবে, যার ফলে তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

নাভিনের চোট ও সাম্প্রতিক ফর্ম

গত কয়েক মাস ধরেই নাভিনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এরপর তিনি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এসএ ২০’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর লিগ ক্রিকেট’ (এমএলসি)-এ খেললেও তাঁর পুরনো চোট বারবার ফিরে আসছিল। এমনকি ২০২৫ সালের এশিয়া কাপেও তিনি এই চোটের কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে (আইএল টি-টোয়েন্টি) এমআই এমিরেটসের হয়ে মাঠে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারই তাঁর একমাত্র সমাধান হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

নাভিনের অনুপস্থিতি আফগান বোলিং আক্রমণকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তা নিচের টেবিল থেকে স্পষ্ট হবে:

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
বোলিং স্পেশালিটিস্লোয়ার, কাটার এবং নিখুঁত ইয়র্কার।
ভূমিকাডেথ ওভার স্পেশালিস্ট ও ইনিংসের শেষ দিকের ব্রেকথ্রু।
মিস করা টুর্নামেন্ট২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ।
অস্ত্রোপচারের সময়চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ।
সম্ভাব্য বদলি (রিজার্ভ)এ এম গজনফর, ইজাজ আহমদজাই ও জিয়াউর রহমান শরিফী।

রশিদ-মুজিবের ফেরা: স্বস্তির সুবাতাস

নাভিনের ছিটকে যাওয়া যদি বড় ক্ষত হয়, তবে অধিনায়ক রশিদ খানের ফেরা আফগানদের জন্য প্রলেপ হিসেবে কাজ করবে। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ ২০ লিগ মাঝপথে রেখেই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন রশিদ খান। এমআই কেপটাউনের হয়ে খেলা রশিদকে ছেড়ে দিয়েছে তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি, যেখানে তাঁর পরিবর্তে খেলবেন কাইরন পোলার্ড। রশিদের পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন রহস্য স্পিনার মুজিব-উর-রেহমানও। তিনি পার্ল রয়্যালস ছেড়ে সরাসরি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রস্তুতিতে অংশ নেবেন।

আফগান শিবিরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নাভিনের মতো অভিজ্ঞ বোলারের অভাব উপমহাদেশীয় উইকেটে ভালোই টের পাবে আফগানিস্তান। বিশেষ করে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্য মাঝের ওভার ও শেষ ওভারে রান আটকে রাখতে কার্যকর ছিল। এসিবি এখনো নাভিনের সরাসরি বদলি হিসেবে কারো নাম ঘোষণা না করলেও রিজার্ভ তালিকায় থাকা পেসার জিয়াউর রহমান শরিফীর মূল দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রহস্য স্পিনার এ এম গজনফরও হতে পারেন এক্স-ফ্যাক্টর।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, নাভিনের অনুপস্থিতি দুঃখজনক হলেও দলের অন্যান্য বোলারদের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগান স্পিন আক্রমণ এবং পেস ইউনিটের সমন্বয়ে বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠনের কাজ চলছে।