খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪০ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের দুর্নীতির বলয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল সম্পদের উৎস সন্ধানে তৎপর হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন মেয়রের কন্যা বুশরা আফরিন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, কমিশনের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
Table of Contents
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মশার ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র কেনাকাটায় দুর্নীতি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে কারচুপি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোতে তার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে বুশরা আফরিনের কোনো ভূমিকা বা সুবিধাভোগী হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তার নামে থাকা দেশি-বিদেশি সম্পদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে।
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাবন্দি। তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের হাতে আসা অভিযোগগুলোর একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | সংশ্লিষ্ট তথ্য |
| অনুসন্ধানধীন ব্যক্তি | আতিকুল ইসলাম, শায়লা শগুফতা ইসলাম (স্ত্রী) ও বুশরা আফরিন (কন্যা)। |
| প্রধান অভিযোগ | অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচার। |
| বিদেশ ভ্রমণের স্থিতি | আদালত কর্তৃক স্ত্রী ও কন্যার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি (৭ জানুয়ারি ২০২৬)। |
| বিদেশে সম্পদের অবস্থান | কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান। |
| নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক | ২০২৩ সালে বিতর্কিতভাবে ‘চিফ হিট অফিসার’ পদে বুশরা আফরিনের নিয়োগ। |
বুশরা আফরিন ২০২৩ সালের মে মাসে যখন এশিয়ার প্রথম ‘চিফ হিট অফিসার’ হিসেবে ডিএনসিসিতে দায়িত্ব পান, তখন থেকেই তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি ছিল, কোনো প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মেয়রের মেয়ে হিসেবে তাকে এই পদে বসানো হয়েছিল। যদিও তিনি কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে ডিগ্রিধারী এবং ঘানায় লোকাল গভর্নমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তবুও তার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার সাম্রাজ্যের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। দুদক মনে করছে, মেয়রের আড়ালে তার পরিবারের সদস্যরাও অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নামে থাকা বাড়ি ও ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (MLAR) পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুশরা আফরিন গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা না বলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার দেওয়া তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাকে পুনরায় তলব করা হতে পারে।
মন্তব্য