থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরপর দুইদিন দুটি ভয়াবহ নির্মাণ দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামুত সাখোন প্রদেশের একটি উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড হাইওয়ে নির্মাণকালে ক্রেন ভেঙে পড়ে নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বুধবার একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পে ক্রেন দুর্ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সব মিলিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটিতে নির্মাণাধীন ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
সামুত সাখোন ও রামা টু এক্সপ্রেসওয়ের দুর্ঘটনা
বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সামুত সাখোন প্রদেশের রামা টু এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায়, যা প্যারিস ইন গার্ডেন হোটেলের ঠিক সামনে অবস্থিত। একটি উড়াল সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির একটি ক্রেন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের প্রধান সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ সুপার কর্নেল সিত্তিপর্ন কাসি জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। নির্মাণাধীন এই সড়কটি স্থানীয়দের কাছে ‘ডেথ রোড’ বা মৃত্যু সড়ক হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে, কারণ এর আগেও এখানে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে দুটি দুর্ঘটনা
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পর পর ঘটে যাওয়া এই দুটি বড় দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, যার নাম ‘ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট’ (ITD)। বুধবার নাখোন রাচাসিমা প্রদেশে চীনের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি অংশে এই প্রতিষ্ঠানের ক্রেন চলন্ত ট্রেনের ওপর পড়ে ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটায়। পরদিনই একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে অন্য একটি প্রকল্পে পুনরায় দুর্ঘটনা ঘটায় নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দুই দিনের দুর্ঘটনার তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| তারিখ | দুর্ঘটনার স্থান | প্রকল্পের ধরণ | প্রাণহানি | আহত |
| ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) | নাখোন রাচাসিমা প্রদেশ | উচ্চগতির রেল নির্মাণ | ৩২ জন | ১০+ |
| ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | সামুত সাখোন (রামা ২) | উড়াল সড়ক নির্মাণ | ০২ জন | ০৫ জন |
| সর্বমোট | — | — | ৩৪ জন | ১৫+ |
সরকারি তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ
বুধবারের দুর্ঘটনায় ১৯৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি চলন্ত ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা উদ্ধারকাজে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাচাকিতপ্রাকর্ন এই ভয়াবহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অধীনে পর পর দুটি দুর্ঘটনা ঘটায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। থাই সরকার জানিয়েছে, নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হতে পারে।
থাইল্যান্ডের এই নির্মাণ বিপর্যয় দেশটির অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং প্রকৌশলগত ত্রুটিগুলো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
