দেশের খাদ্য সংকট নিরসন এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আমদানিকৃত চালের একটি বড় চালান মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল বহনকারী ভিয়েতনামের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি হং টার্ন’ গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দরের বেসক্রিক এলাকায় নোঙর করে। যথাযথ গুণমান পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে জাহাজটি থেকে চাল খালাসের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গুণমান যাচাই ও প্রশাসনিক পরিদর্শন
আমদানিকৃত চালের মান নিশ্চিত করতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে জাহাজটি থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আব্দুল সোবহান সরদার জানান, সংগৃহীত নমুনাগুলো খুলনা ও ঢাকার উন্নত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাবরেটরি থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সন্তোষজনক হলে তবেই চাল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে। নমুনা সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আজাদ এবং খুলনার আঞ্চলিক চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক এস কে মশিয়ার রহমান।
চাল আমদানির পরিসংখ্যান ও লক্ষ্যমাত্রা
সরকার বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে তিনটি দেশ থেকে বৃহৎ পরিসরে চাল আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে। আমদানির বর্তমান চিত্র নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| আমদানিকৃত চালের পরিমাণ (বর্তমান চালান) | ৫,০০০ মেট্রিক টন |
| পরিবহনকারী জাহাজের নাম | এমভি হং টার্ন (ভিয়েতনাম) |
| জিটুজি চুক্তির উৎস দেশসমূহ | ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান |
| সর্বমোট আমদানির লক্ষ্যমাত্রা | ৮,০০,০০০ মেট্রিক টন |
| মোংলা বন্দরে এ পর্যন্ত সম্পন্ন আমদানি | ২৫,০০০ মেট্রিক টন |
| খালাস ও বণ্টনের গন্তব্য | খুলনা ও বরিশাল বিভাগের খাদ্য গুদাম |
খালাস পদ্ধতি ও বণ্টন প্রক্রিয়া
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। জাহাজ থেকে চাল খালাস করার পর সেগুলো লাইটার জাহাজে করে নদীপথে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে আসন্ন মাসগুলোতে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সরকারি ত্রাণ ও ভর্তুকি মূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম আরও সহজতর হবে।
৫ হাজার মেট্রিক টন চাল খালাস শেষ হওয়ার পরপরই ‘এমভি হং টার্ন’ মোংলা বন্দর ত্যাগ করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
