নিলামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশাল পরিমাণে ডলার ক্রয়

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার, ১২ জানুয়ারি, নিলামের মাধ্যমে ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রয়টি বিনিময় হার ১২২.৩০ টাকা প্রতি ডলার হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই নিলাম দেশের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে কাটঅফ মূল্যও ১২২.৩০ টাকা নির্ধারিত ছিল। এই লেনদেনের ফলে জানুয়ারি ২০২৬ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় হয়েছে ৬৯৮ মিলিয়ন ডলার, যা স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা চলতি অর্থবছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ক্রয় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি ও আমদানি ভারসাম্য বজায় রাখা, এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়ক।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় করেছে। এ পর্যন্ত মোট ক্রয় হয়েছে ৩.৮৩ বিলিয়ন ডলার (৩৮৩ কোটি ৩৫ লাখ)। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত ওঠানামি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

নিচের টেবিল থেকে সাম্প্রতিক ডলার ক্রয়ের বিস্তারিত জানা যাচ্ছে:

ক্রয় তারিখব্যাংক সংখ্যাক্রয়ের পরিমাণ (মিলিয়ন USD)বিনিময় হার (BDT/USD)মন্তব্য
১২ জানুয়ারি ২০২৬১০৮১১২২.৩০নিলামের মাধ্যমে ক্রয়
জানুয়ারি ২০২৬ (মোট)৬৯৮মাসিক মোট ক্রয়
২০২৫-২৬ অর্থবছর (মোট)৩,৮৩৫অর্থবছর ধরে মোট ক্রয়

বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিলাম কৌশল ডলারের ওঠানামি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাস্ফীতি রোধ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ রপ্তানি ও আমদানি খাতের ভারসাম্য বজায় রাখা, বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এ ধরনের ক্রয়ের মূল উদ্দেশ্য।

নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবাজারে আস্থা দৃঢ় রাখার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামির মধ্যে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।