রংপুরে মদপান থেকে তিনজনের মৃত্যু

রংপুরের বদরগঞ্জে বিষাক্ত মদপানের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে তিনজন মারা গেছেন এবং আরও দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই দুঃখজনক ঘটনাটি সোমবার, ১২ জানুয়ারি ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ও আহত ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার রাতে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার এবং রংপুর সদর কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর গফুর উভয়েই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “মদপানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যেই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি গোপালপুর ইউনিয়নের কিসামত বসন্তপুর নয়া পাড়ায় জয়নুল আবেদিন নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে পাঁচজন রেকটিফাইট স্পিরিট কিনে পান করেন। মদপানের কিছুক্ষণের মধ্যে তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুইজন বাড়িতেই মারা যান, আর একজনকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। অবশিষ্ট দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি জয়নুল আবেদিনকে গ্রেফতার করেছে এবং ১০ বোতল রেকটিফাইট স্পিরিট জব্দ করা হয়েছে।

নিচের টেবিলে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

নামবয়সপিতাস্থানঅবস্থা
আলমগীর৪০আমিরুল ইসলামবসন্তপুর, গোপালপুরমৃত
সোহেল৩০রফিকুল ইসলামশিবপুরমৃত
জিন্দার আলীঅনির্দিষ্টসাইদার রহমানশ্যামপুর সাহাপাড়ামৃত
খাইরুল ইসলামঅনির্দিষ্টনুরুল ইসলামকিশামত বসন্তপুরচিকিৎসাধীন
আনিচুল ইসলামঅনির্দিষ্টঅজানাশ্যামপুর বন্দরের দর্জিচিকিৎসাধীন

বদরগঞ্জ থানার ওসি বলেন, “স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে—অজানা উৎসের মদ বা স্পিরিট গ্রহণ করা বিপজ্জনক। মদপানজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতন থাকা জরুরি।” রংপুর সদর কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর গফুরও নিশ্চিত করেছেন যে, বিষাক্ত মদপানের শিকার জিন্দার আলী মারা গেছেন।

স্থানীয় জনগণকে পুলিশ অনুরোধ করেছে, যেকোনো ধরনের অননুমোদিত মদ বা নকল স্পিরিট থেকে দূরে থাকতে। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও অভিযান চালিয়ে এ ধরনের মাদক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকা আতঙ্কিত, এবং পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এখনও শোকে ভুগছেন। পুলিশ জানান, বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য স্থানীয় বাজার ও দোকানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।