গ্যাস সংকট বাড়ছে শীতে, নিয়মিত বিল দিলেও ন্যূনতম গ্যাস পাচ্ছে না বহু পরিবার

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শীতের শুরুতে সরকারি পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধের পরও বহু পরিবার ন্যূনতম গ্যাস পাচ্ছে না। সংকটকে আরও বাড়াচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের ঘাটতি ও বেড়ে যাওয়া দাম। অনেক গৃহস্থালী বাধ্য হয়ে মাটির চুলা বা বৈদ্যুতিক ও ইন্ডাকশন চুলার ওপর নির্ভর করছেন।

মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া মাদ্রাসা রোডের গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, “পাইপলাইন সংযোগ থাকলেও শীতে চুলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে যায়। সারাদিন গ্যাস না থাকলেও রাত ১২টার পর সামান্য গ্যাস আসে, কিন্তু ঠিকমতো রান্না সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে এলপিজি কিনতে হয়।” মিরপুরের বেসরকারি কর্মী আসাদ আবেদীনও বলেন, “শীতকালে পাইপলাইন গ্যাস প্রায় নেই। মাঝরাতে সামান্য গ্যাস এলে তখনই রান্না করতে হয়। এতে পুরো পরিবারের রান্না সম্ভব হয় না।”

টঙ্গীর বাসিন্দা মোস্তফা পাটোয়ারী জানান, “এলপিজি বাজারে পাওয়া যায় না, আর যে দাম তা অনেক বেশি। তাই বিকল্প হিসেবে মাটির চুলায় রান্না করছি।”

এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারই রিফিল হচ্ছে। বড় এলপিজি কোম্পানিগুলোর আমদানি বন্ধ থাকার কারণে ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সরবরাহে বিঘ্ন ও ইউরোপে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যে দেখা গেছে, তিন মাস আগে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (mmcft), যা বর্তমানে কমে ২,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে এসেছে। এর মধ্যে ৮৩২ মিলিয়ন ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে, বাকিটা দেশীয় কূপ থেকে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ কমেছে ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন কূপ খনন চলছে, নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ছাড়া সংকট আরও বাড়বে।

বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের চিত্র

বিষয়বর্তমান অবস্থা
দৈনিক চাহিদা (ঢাকা)২,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট
বর্তমান সরবরাহ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট
পেট্রোবাংলার সরবরাহ২,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট
এলএনজি সরবরাহ৮৩২ মিলিয়ন ঘনফুট
রিফিল হওয়া এলপিজি সিলিন্ডার১ কোটি ২৫ লাখ
বাজারে এলপিজি দাম২,২০০ টাকা (সরকারি ১,৩০৬ টাকা)
মাসিক পাইপলাইন বিল১,০৮০ টাকা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম থাকায় সংকট আরও তীব্র হবে। সরকারের উচিত এখনই এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাইপলাইন গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করা। এটি না হলে আবাসিক ব্যবহারকারীরা শীতের সময় আরও ভোগান্তিতে পড়বেন।