স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর হত্যা: শুটারসহ গ্রেপ্তার তিনজন

মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গতকাল শুক্রবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির (৪৪) হত্যার সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল শুটার জিনাত ও পরিকল্পনাকারী বিল্লাল রয়েছেন, যাদের সঙ্গে অপর একজন সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছে।

ডিবির শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোককে জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, “মুছাব্বির হত্যায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

আজিজুর রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি গত কয়েক বছরে বিভিন্ন মামলা মোকাবেলা করেছেন এবং বেশির ভাগ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

ঘটনাক্রমে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আজিজুর রহমান নিহত হন। তার মৃত্যুর পর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহতের জানাজা বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

আজিজুর হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

নিচের টেবিলে ঘটনা ও গ্রেপ্তারকৃতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

তারিখ ও সময়ঘটনা বিবরণস্থানগ্রেপ্তারকৃতভূমিকা
০৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাতআজিজুর রহমান গুলিতে নিহতপশ্চিম তেজতুরি বাজার, তেজগাঁও
০৯ জানুয়ারি ২০২৬জানাজা ও শোক সমাবেশনয়াপল্টন, ঢাকা
০৯ জানুয়ারি ২০২৬ রাতডিবি অভিযান ও গ্রেপ্তারমানিকগঞ্জ ও গাজীপুরজিনাত, বিল্লাল, সহযোগীশুটার ও পরিকল্পনাকারী

ডিবি সূত্রের মতে, হত্যাকারীরা নিহতের সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং পূর্বপরিকল্পনার মাধ্যমে ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হত্যাকাণ্ডের আরও তথ্য উদঘাটন করতে কাজ করছেন।

এই হত্যাকাণ্ডটি রাজনীতিকভাবে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত করার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে।