ঢাকা মহানগরীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী চক্রের তৎপরতা রুখতে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর রূপনগর থানা এলাকায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ পরিচালনার মাধ্যমে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনভর পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতাসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আলমগীর খান (৫২)। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ ছিল। আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা ও তাঁদের আইনি পদক্ষেপের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপ
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম | বয়স | রাজনৈতিক পরিচয়/অবস্থান | সংশ্লিষ্ট আদালত |
| আলমগীর খান | ৫২ | সহসভাপতি, রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। | সিএমএম আদালত, ঢাকা। |
| মো. অদুল্লাহ | ৩৫ | সুনির্দিষ্ট মামলার আসামি। | সিএমএম আদালত, ঢাকা। |
| মো. সিনান সায়েফী | ২৩ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| মো. পারভেজ মোশারফ | ২২ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| মো. শাহীন | ৩০ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| মো. রুবেল | ৩০ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| মো. আবদুর রাজ্জাক মিয়া | ৫১ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| জামাল হোসেন | ৪২ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| মো. আল আমিন | ২৬ | ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী অভিযুক্ত। | স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ মূলত একটি বিশেষায়িত কৌশলগত অভিযান, যার লক্ষ্য রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় লুকিয়ে থাকা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নির্মূল করা। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর খান এবং অদুল্লাহর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় তাঁদের সরাসরি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি সাতজনকে ডিএমপি অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত করে মিরপুর বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মিরপুর ও রূপনগর সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রূপনগর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে এই ধরণের অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রত্যাশা করছেন এর মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
