৭১টি বাড়ি নির্ধারণ, মন্ত্রিপাড়ায় থাকবেন কেবল মন্ত্রীরা

রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও গুলশান এলাকায় সরকারি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টের একটি বিশাল জাল রয়েছে, যেগুলো মূলত মন্ত্রিপাড়ার নামে পরিচিত। আগে এই আবাসনগুলো মন্ত্রীদের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে সেখানে নির্বাচন কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা বসবাস করছেন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার চায় এসব বাসা শুধু মন্ত্রীদের জন্য সংরক্ষিত (এয়ারমার্ক) রাখা হোক। গৃহায়ণ ও গণপূরণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ইতিমধ্যে ৭১টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট চিহ্নিত করেছে, যেগুলো শুধুমাত্র মন্ত্রিদের জন্য নির্ধারিত হবে।

আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাংবিধানিক পদে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য আলাদা বাসা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা মন্ত্রিপাড়ায় থাকছেন। এর ফলে এয়ারমার্ক নীতির ব্যত্যয় ঘটছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৩ সালে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ৪১টি বাংলোর সঙ্গে নতুন করে ৩০টি বাসা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিম্নে মন্ত্রিপাড়ার বাসার বণ্টন ও বর্তমান ব্যবহার সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

এলাকামোট বাসানতুন সংযুক্তমোট নির্ধারিতবর্তমান ব্যবহারকারীরা
বেইলি রোড301930উপদেষ্টা, বিচারপতি, আমলা
মিন্টো রোড111উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তা
হেয়ার রোড14014উপদেষ্টা ও অন্যান্য কর্মকর্তা
গুলশান555সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (বর্তমানে খালি)
ধানমন্ডি535সাবেক সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল মামুনের নামে কিছু
মোট553071

২০১৩ সালে বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে ৪১টি বাসা মন্ত্রিদের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত সরকার সময়ে বিচারপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তা সেখানে বসবাস শুরু করলে এই সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে বেইলি রোডে ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ নামে তিনটি ভবনে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ৫,৫০০ বর্গফুট।

নতুন করে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি, যার আহ্বায়ক সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, এই প্রতিবেদনে ৭১টি বাসা মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। সরকার এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভা গঠিত হলে মন্ত্রিপাড়ায় নতুন মন্ত্রীদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে না পারলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া, গুলশান ও ধানমন্ডিতে যেসব নতুন বাসা এয়ারমার্ক করা হয়েছে, সেখানে ভবিষ্যতে মন্ত্রিরা ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না। প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে যারা বসবাস করছেন, তাঁদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রিপাড়া এলাকার আবাসন ব্যবস্থাকে সুসংহত করা, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং ভবিষ্যতে মন্ত্রিপাড়ায় মন্ত্রিদের জন্য বাসা নিশ্চিত করা।