,

যশোরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা হত্যা: বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডল গ্রেপ্তার

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে উদীয়মান ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যশোর জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রানার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করেছে। ঝুমুর স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারের কর্মী বলে জানা গেছে।

নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বাগেরহাটের একটি সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও তিনি নিজ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কপালিয়া বাজারে একটি বরফকল স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করেন। স্বজনদের দাবি, রানা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না; সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কারণকে কেন্দ্র করেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাজারের একটি নির্জন গলিতে তাঁকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘাতকরা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড: এক নজরে মূল তথ্য

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ ও প্রাপ্ত তথ্য
নিহত ব্যক্তিরানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮)
পেশাগত পরিচয়ব্যবসায়ী (বরফকল মালিক), কপালিয়া বাজার
আটককৃত সন্দেহভাজনঝুমুর মণ্ডল (বান্ধবী ও বিউটি পার্লার কর্মী)
হত্যাকাণ্ডের ধরণধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে হত্যা
সম্ভাব্য মোটিভব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যক্তিগত শত্রুতা
পারিবারিক দাবিপ্রতিপক্ষ বরফকল মালিকের ভাড়াটে খুনি দ্বারা আক্রান্ত
তদন্তের অগ্রগতিসিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঝুমুর মণ্ডল রানার বরফকলে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করেন। এর কিছুক্ষণ পর রানা বরফকল থেকে বের হয়ে হেঁটে বিউটি পার্লারের গলির দিকে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁর গতিরোধ করে। রানার বাবা তুষার কান্তি বৈরাগীর ভাষ্যমতে, ঝুমুর মণ্ডলের সাথে কথা বলার পরপরই দুই যুবক রানার সাথে কথা বলে এবং এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে। পরিবারের সন্দেহ, ঝুমুর মণ্ডলকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে রানাকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

রানার স্ত্রী সীমা বৈরাগী অভিযোগ করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক রেষারেষি প্রধান কারণ হতে পারে। তিনি জানান, কপালিয়া বাজারে আগে থেকেই অন্য এক ব্যক্তির একটি বরফকল ছিল। রানা নতুন বরফকল চালু করার পর থেকেই ওই মালিক রানার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করেন। সীমা বৈরাগীর দাবি, ইতিপূর্বেও রানাকে মারধর করার জন্য ওই মালিক লোক ভাড়া করেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, ঝুমুর মণ্ডলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।