মানিকগঞ্জে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি: দুই পরিবেশককে জরিমানা

মানিকগঞ্জ জেলা শহরে বোতলজাত এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করার অভিযোগে দুই বড় গ্যাস পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের বেওথা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে এই সিন্ডিকেটটি সক্রিয় ছিল বলে অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান রুমেল। অভিযানে দেখা যায়, পরিবেশক প্রতিষ্ঠানগুলো দোকানে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে ঘাটতি রয়েছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছিল এবং এই সুযোগে সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি অর্থ আদায় করছিল। এছাড়া, ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে তারা দোকানে কোনো মূল্য তালিকা প্রদর্শন করছিল না এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে পাকা রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল। আইন অমান্য ও অনৈতিক বাণিজ্যের দায়ে মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের মূল পর্যবেক্ষণ ও জরিমানার বিস্তারিত নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:

মানিকগঞ্জ গ্যাস সিলিন্ডার তদারকি অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ক্ষেত্রঅভিযানের বিবরণ ও প্রাপ্ত তথ্য
অভিযান পরিচালনাকারীজাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ১মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্স (১,০০,০০০ টাকা)
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ২মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্স (৫০,০০০ টাকা)
অভিযুক্তের কারণকৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়
আইনগত লঙ্ঘনমূল্য তালিকা না থাকা এবং রশিদ প্রদান না করা
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গক্যাব সভাপতি ও জেলা পুলিশ সদস্যগণ
অভিযানের সময়কাল৫ জানুয়ারি, সোমবার (৩ ঘণ্টা ব্যাপী)

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত এক টাকাও নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকটের বাহানা তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। আমরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন অনুযায়ী প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান রাখা এবং ক্রেতাকে রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক।” তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান যে, বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান জেলাজুড়ে নিয়মিত পরিচালিত হবে।

অভিযান চলাকালে মানিকগঞ্জ জেলা কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি সামসুন্নবি তুলিপ উপস্থিত ছিলেন। তিনি অধিদপ্তরের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এমন কঠোর অবস্থানের বিকল্প নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম চাইলে অবিলম্বে হটলাইন নাম্বারে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের পর স্থানীয় বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সাধারণ ভোক্তারা।