ঠান্ডার রেকর্ড: ঈশ্বরদীতে শীতের প্রখরতা

পাবনার ঈশ্বরদীসহ পদ্মা-যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে হাড় কাঁপানো শীত জনজীবনকে কঠোরভাবে প্রভাবিত করছে। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং কখনো কুয়াশা বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র দেশের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্বেক্ষক নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, “গত দুই সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১২.৫ ডিগ্রি থেকে ৯–১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছিল। ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নেমেছে। আজ (৫ জানুয়ারি) সকালেই রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি, যা দেশের সর্বনিম্ন।”

২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ পরিস্থিতিতে পদ্মা-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের প্রায় দুই লাখ মানুষসহ অন্তত ৭ লাখ মানুষ শীতের তীব্র প্রভাবে কষ্টে দিনযাপন করছে। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ শীতে কাজ করতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে বা হালকা চুলার আগুনে নিজেকে শীত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

শীতজনিত রোগ যেমন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গত দু’দিনে ৩ শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ১৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।”

নিম্নলিখিত টেবিলে ঈশ্বরদীসহ এলাকার সাম্প্রতিক তাপমাত্রার রেকর্ড দেখানো হলো:

তারিখস্থানসর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C)মন্তব্য
২ জানুয়ারিঈশ্বরদী৮.৮দেশের সর্বনিম্ন নয়
৫ জানুয়ারিঈশ্বরদী৮.৪দেশের সর্বনিম্ন
৩ জানুয়ারিপাবনা সদর৯.২হালকা শীত
৪ জানুয়ারিভাঙ্গুড়া৯.০মাঝারি শীত

শীতের এই প্রভাবে গরম কাপড় কিনতে শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলায়ও যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করেছে, শিশু ও বৃদ্ধদের শীত থেকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পাবনার মানুষের জন্য চলমান তীব্র শীত ও এর সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।